নারীর অধিকারে বাধা দিচ্ছে বিরোধীরা, লোকসভায় বিল আটকে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী

লোকসভায় নারী সংরক্ষণ বিল সংক্রান্ত সংশোধনী পাশ না হওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শুক্রবার ভোটাভুটিতে প্রয়োজনীয় সমর্থন না মেলায় বিলটি আটকে যায়, যা নিয়ে শনিবার তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটোরে এক নির্বাচনী জনসভা থেকে বিরোধীদের কড়া আক্রমণ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, কংগ্রেস এবং ডিএমকে-র মতো দলগুলোর বাধার কারণেই দেশের মহিলারা তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
ভোটের সমীকরণ ও বিলের ভবিষ্যৎ
সংসদ ও বিধানসভাগুলোতে মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণ দ্রুত কার্যকর করতে এই সংশোধনী আনা হয়েছিল। বিলটি পাশের জন্য সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ অন্তত ৩২৬ জন সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন ছিল। তবে ভোটাভুটিতে বিলের পক্ষে ২৯৮টি এবং বিপক্ষে ২৩০টি ভোট পড়ে। সংখ্যাধিক্য না থাকায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু শেষ পর্যন্ত বিলটি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন। এই ব্যর্থতার জন্য সরাসরি বিরোধী জোটকে দায়ী করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহিলাদের ক্ষমতায়নের পথে এটি একটি বড় বাধা।
রাজনৈতিক সংঘাত ও প্রভাব
এই ঘটনার ফলে জাতীয় রাজনীতিতে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। প্রধানমন্ত্রীর মতে, এই বিল পাশ হলে নতুন জনগণনার জটিলতা ছাড়াই দ্রুত সংরক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা যেত। অন্যদিকে, রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবির দাবি করেছে যে, এই বিলের মাধ্যমে সংবিধানকে দুর্বল করার চেষ্টা করা হচ্ছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের নির্বাচনে এই নারী সংরক্ষণ ইস্যুটি বড় আকার ধারণ করতে পারে, যেখানে বিজেপি মহিলাদের অধিকার রক্ষার লড়াইকে হাতিয়ার করে জনমত গঠনের চেষ্টা করবে।
এক ঝলকে
- লোকসভায় নারী সংরক্ষণ সংক্রান্ত সংশোধনী বিল প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে পাশ হতে ব্যর্থ হয়েছে।
- বিলের পক্ষে ২৯৮ এবং বিপক্ষে ২৩০টি ভোট পড়েছে, যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩২৬টি ভোট।
- তামিলনাড়ুর জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী এই ঘটনার জন্য কংগ্রেস ও ডিএমকে-কে দায়ী করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
- বিরোধীরা এই বিলকে সংবিধানের জন্য হুমকিস্বরূপ বলে অভিহিত করলেও বিজেপি এই লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।