ভোটের আগে রণক্ষেত্র সন্দেশখালিতে ভোলবদল, উধাও শাহজাহানের দুর্ধর্ষ বাইক বাহিনী?

সন্দেশখালির একদা ‘বেতাজ বাদশা’ শেখ শাহজাহান বর্তমানে শ্রীঘরে। তাঁর অনুপস্থিতিতে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়েছে তাঁর এক সময়ের দুর্ধর্ষ অনুগামীরা। বছরের পর বছর যে বাহিনীর দাপটে বিরোধীরা তটস্থ থাকত, ভোটের মুখে এখন সেই ‘শাহজাহান বাহিনী’র টিকিও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না এলাকায়। কুখ্যাত সেই বাইক বাহিনীর টহলদারি বন্ধ হওয়ায় জনমানসে যেমন গুঞ্জন বেড়েছে, তেমনই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে বিরোধী শিবির।
নেতৃত্বহীনতায় ছন্নছাড়া বাহিনী
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, এই বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করার মতো প্রভাবশালী নেতারা এখন হয় জেলবন্দি, নয়তো জামিনের শর্ত মেনে এলাকার বাইরে রয়েছেন। শাহজাহানের ভাই আলমগির থেকে শুরু করে শিবু হাজরা বা উত্তম সরদারের মতো প্রধান সেনাপতিরা প্রশাসনিক জালে আটকে পড়ায় বাহিনীর চেইন অফ কমান্ড পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। ফলে ভোটের মুখে বুথ দখল বা বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকির চেনা ছবিটা এ বার সন্দেশখালি, হাসনাবাদ বা মিনাখাঁয় অনুপস্থিত।
প্রভাব ও রাজনৈতিক সমীকরণ
বিগত লোকসভা নির্বাচনেই শাহজাহানের অনুপস্থিতির প্রভাব ব্যালট বাক্সে স্পষ্ট হয়েছিল। শাহজাহানের গড়ে বিজেপি প্রায় ৮ হাজার ভোটের লিড পাওয়ায় তৃণমূলের অন্দরেও অস্বস্তি রয়েছে। বর্তমান প্রার্থী ঝর্ণা সরদারকে নিয়ে দলের একাংশের ক্ষোভ এবং বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা শাসক শিবিরের ভোটব্যাঙ্কে বড়সড় ধস নামাতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। পেশিশক্তির দাপট কমলে সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন কি না, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।
এক ঝলকে
- শেখ শাহজাহান ও তাঁর প্রধান সহযোগীরা জেলবন্দি থাকায় সন্দেশখালিতে বাইক বাহিনীর দাপট বন্ধ।
- নেতৃত্বহীনতার কারণে এক সময়ের দাপুটে কর্মীরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন করেছেন অথবা নিষ্ক্রিয়।
- বাহিনীর অনুপস্থিতিতে সন্দেশখালিতে নিজেদের অনুকূল পরিবেশ দেখছে বিজেপি ও অন্যান্য বিরোধী দল।
- শাসক দলের প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে ক্ষোভ এবং শাহজাহান ফ্যাক্টরের অনুপস্থিতি ভোটের ফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।