ভারত-রাশিয়া সামরিক মৈত্রী: ৩০০০ সেনা ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের ঐতিহাসিক চুক্তি কার্যকর!

ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে সম্পাদিত যুগান্তকারী ‘রেসিপ্রোকাল এক্সচেঞ্জ অফ লজিস্টিকস সাপোর্ট’ (RELOS) চুক্তিটি ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে। এর ফলে দুই দেশ এখন একে অপরের ভূখণ্ডে নির্দিষ্ট সংখ্যক সামরিক শক্তি মোতায়েন করতে পারবে। ভূ-রাজনৈতিক সংকটের এই আবহে দুই দেশের এমন কৌশলগত পদক্ষেপ দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিরক্ষা মানচিত্রে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও মোতায়েনের পরিধি
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ভারত ও রাশিয়া একে অপরের এলাকায় এককালীন সর্বোচ্চ ৩,০০০ সৈন্য, ৫টি যুদ্ধজাহাজ এবং ১০টি সামরিক বিমান মোতায়েন করতে পারবে। প্রাথমিকভাবে ৫ বছরের জন্য কার্যকর হওয়া এই চুক্তিটি উভয় দেশের সম্মতিতে আরও ৫ বছর বাড়ানো সম্ভব। রাশিয়ার আইনসভা ও সংসদীয় কমিটির অনুমোদনের পর এই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এখন এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
লজিস্টিক সুবিধা ও কারিগরি সহযোগিতা
এই চুক্তির অধীনে দুই দেশ একে অপরের বিমানঘাঁটি ও বন্দর ব্যবহারের সুবিধা পাবে। বিশেষ করে ভারতের জন্য রাশিয়ার আর্কটিক অঞ্চলের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে প্রবেশাধিকার পাওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া যুদ্ধজাহাজের মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ এবং খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহের মতো প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা এখন অনেক সহজ হবে। মূলত যৌথ সামরিক মহড়া, প্রশিক্ষণ এবং মানবিক বিপর্যয় মোকাবিলায় এই পরিকাঠামো ব্যবহার করা হবে।
কৌশলগত গুরুত্ব ও প্রভাব
পশ্চিম এশিয়া ও ইউক্রেন সংঘাতের বর্তমান প্রেক্ষাপটে ভারত-রাশিয়া এই সামরিক আদান-প্রদান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ভারতীয় সেনাবাহিনীতে ব্যবহৃত রুশ সমরাস্ত্রের মেরামত ও যন্ত্রাংশ সংগ্রহের জটিলতা দূর করতে এই চুক্তি বড় ভূমিকা রাখবে। এর পাশাপাশি দূরপাল্লার সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে দুই দেশের লজিস্টিক খরচ যেমন কমবে, তেমনই কৌশলগত সমন্বয় আরও জোরদার হবে।
এক ঝলকে
- ভারত ও রাশিয়ার সামরিক লজিস্টিক চুক্তি ২০২৬ সাল থেকে কার্যকর হলো।
- ৩,০০০ সৈন্য, ৫টি যুদ্ধজাহাজ ও ১০টি যুদ্ধবিমান মোতায়েনের বিশেষ অনুমতি।
- আর্কটিক অঞ্চলসহ একে অপরের বিমানবন্দর ও বন্দর ব্যবহারের সুবিধা পাবে দুই দেশ।
- ৫ বছরের প্রাথমিক মেয়াদে এই চুক্তি যৌথ মহড়া ও সামরিক রক্ষণাবেক্ষণকে গতিশীল করবে।