শান্তিপূর্ণ ভোটের লক্ষ্যে বুথে ১০০ মিটারের ‘লক্ষ্মণ রেখা’ টানছে নির্বাচন কমিশন

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নজিরবিহীন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করল নির্বাচন কমিশন। ভোটগ্রহণের দিন বুথ চত্বরে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ও জটলা রুখতে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের চারপাশে ১০০ মিটারের একটি সুরক্ষা বেষ্টনী বা ‘লক্ষ্মণ রেখা’ তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শনিবার রাজ্যের ১৬টি জেলার পুলিশ সুপার ও কমিশনারদের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই নির্দেশিকা জারি করেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল।
নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ও কঠোর যাচাই প্রক্রিয়া
কমিশনের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ভোটকেন্দ্রের ১০০ মিটার এলাকা সাদা চক দিয়ে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা থাকবে। এই সীমানার মধ্যে প্রবেশ করতে হলে ভোটারদের কড়া তল্লাশি ও পরিচয়পত্র যাচাইয়ের সম্মুখীন হতে হবে। সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে এই ব্যাসার্ধের ভেতর দুটি বিশেষ চেকপয়েন্ট তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে বুথ লেভেল অফিসার (BLO) ও তাঁদের সহকারীরা ভোটার কার্ড পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা করবেন। মূলত ভুয়া ভোটদান বন্ধ করা এবং বুথের সামনে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করে অবাধ ও স্বচ্ছ ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাই এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য।
পুলিশি গাফিলতিতে সরাসরি শাস্তির হুঁশিয়ারি
বৈঠকে পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছে কমিশন। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ১০০ মিটারের এই গণ্ডি লঙ্ঘিত হলে বা কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিককে (OC) সরাসরি সাময়িক বরখাস্ত বা সাসপেন্ড করা হবে। এছাড়া, যেসব এলাকায় বোমা বা আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হবে, সেখানে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ওসিতেদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। গত নির্বাচনের হিংসায় অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়ে কমিশন বুঝিয়ে দিয়েছে যে, ভোটকেন্দ্রে দুষ্কৃতী দমনে তারা এবার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করছে।
এক ঝলকে
- ভোটকেন্দ্রের চারপাশে ১০০ মিটারের সুরক্ষা বলয় বা ‘লক্ষ্মণ রেখা’ কার্যকর করা হচ্ছে।
- পরিচয়পত্র যাচাইয়ের জন্য সীমানার ভেতরে থাকবে দুটি স্তরের বিশেষ চেকপয়েন্ট।
- নিরাপত্তা বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি-কে সরাসরি সাসপেন্ড করবে কমিশন।
- ভুয়া ভোট রুখতে এবং বুথ এলাকায় জমায়েত নিষিদ্ধ করতে এই কঠোর বিধিনিষেধ।