রক্তারক্তি কাণ্ড! ঘুমের ঘোরে যমজ কন্যাসন্তানকে গলা কেটে খুন পাষণ্ড বাবার

উত্তর প্রদেশের কানপুরে এক চাঞ্চল্যকর ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গভীর রাতে দুই ঘুমন্ত যমজ কন্যা সন্তানকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেছে তাদেরই বাবা। ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে এবং মৃতদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এই রোমহর্ষক ঘটনাটি পুরো এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ও শোকের ছায়া ফেলেছে।
সন্দেহ ও পারিবারিক অশান্তি
অভিযুক্তের স্ত্রী রেশমার বয়ান অনুযায়ী, ২০১৪ সালে ভালোবেসে বিয়ে করলেও পরবর্তী সময়ে দাম্পত্য জীবনে অশান্তি নেমে আসে। পেশায় মাদকাসক্ত ওই ব্যক্তি প্রায়ই স্ত্রীকে মারধর করত এবং তার চারিত্রিক দৃঢ়তা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করত। সন্দেহের বশবর্তী হয়ে সে পুরো বাড়িতে সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরা বসিয়ে রেখেছিল এবং নিজের ঘরে কারোর প্রবেশাধিকার রাখেনি। এমনকি রেশমাকে ঠিকমতো খাবার না দেওয়া এবং বাপের বাড়ি যেতে বাধা দেওয়ার মতো নির্যাতনের অভিযোগও উঠেছে।
হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কারণ
ঘটনার রাতে সব স্বাভাবিক মনে হলেও মাঝরাতে বীভৎস রূপ ধারণ করে ঘাতক পিতা। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, রাত আড়াইটা নাগাদ সে এক কন্যাকে বাথরুমে নিয়ে যায় এবং ফিরে এসে ঘরের আলো নিভিয়ে দেয়। স্ত্রীর দাবি, স্বামীর অহেতুক সন্দেহ এবং মানসিক বিকৃতিই এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে এবং খুনের প্রকৃত কারণ ও পরিকল্পনার বিষয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
এক ঝলকে
- কানপুরে নেশাগ্রস্ত ও সন্দেহভাজন বাবার হাতে দুই যমজ কন্যার মর্মান্তিক মৃত্যু।
- নিজের ঘরে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগিয়ে স্ত্রীর ওপর নজরদারি চালাত অভিযুক্ত।
- গভীর রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে দুই শিশুকে হত্যা করা হয়।
- পুলিশ ঘাতক পিতাকে গ্রেপ্তার করেছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।