মহিলা বিল নিয়ে মোদীর তোপ, কংগ্রেসের ‘পাপ’ ধোয়ার চেষ্টা নিয়ে বিজেপির তীব্র কটাক্ষ

মহিলা বিল নিয়ে মোদীর তোপ, কংগ্রেসের ‘পাপ’ ধোয়ার চেষ্টা নিয়ে বিজেপির তীব্র কটাক্ষ

দেশের রাজনীতিতে মহিলা সংরক্ষণ বিলকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের সংঘাত এক নতুন মাত্রা পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাম্প্রতিক ভাষণের পর কংগ্রেস রীতিমতো কোণঠাসা হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছে বিজেপি। তেলেঙ্গানা বিজেপির সভাপতি এন রামচন্দর রাও অভিযোগ করেছেন যে, সংসদের নিম্নকক্ষে এই বিলের বিরোধিতা করে কংগ্রেস ও ইন্ডিয়া জোটের আসল চেহারা দেশবাসীর সামনে উন্মোচিত হয়েছে। মূলত নারীদের রাজনৈতিক অধিকার রক্ষার প্রশ্নে বিরোধীদের অবস্থানকে তাঁদের দীর্ঘদিনের ‘পাপ’ হিসেবে বর্ণনা করছে গেরুয়া শিবির।

অধিকার হরণের অভিযোগ বনাম সীমানা নির্ধারণ বিতর্ক

বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এখন নিজেদের ভুল ঢাকতে প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করছেন। তাঁদের মতে, বিরোধীদের বাধার কারণেই এতদিন বিধানসভা ও সংসদে মহিলারা যোগ্য প্রতিনিধিত্বের সুযোগ পাননি। অন্যদিকে, কংগ্রেস এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁরা বিলটির মূল ভাবনার বিরোধী নন, বরং বিলের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া ‘ডিলিমিটেশন’ বা সীমানা নির্ধারণের শর্তটি নিয়েই তাঁদের আপত্তি। বিরোধীদের মতে, এই শর্তের ফলে প্রকৃত সংরক্ষণ কার্যকর হতে দীর্ঘ সময় লেগে যাবে।

ভোটব্যাঙ্কে প্রভাবের সম্ভাবনা

প্রধানমন্ত্রী মোদী কড়া ভাষায় জানিয়েছেন যে, মহিলারা তাঁদের আত্মসম্মানে আঘাত কখনও ভুলে যান না এবং আসন্ন সময়ে মানুষ এর যোগ্য জবাব দেবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের অর্ধেক জনসংখ্যা অর্থাৎ নারী ভোটারদের সমর্থন আদায় করতেই দুপক্ষই এই বিলকে হাতিয়ার করছে। ভোটাভুটিতে বিলের পক্ষে ২৯৮টি ও বিপক্ষে ২৩০টি ভোট পড়ায় স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, আগামী নির্বাচনে মহিলা ভোটারদের মন জয় করা রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

এক ঝলকে

  • মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে বিরোধীদের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করে তাদের ‘নার্ভাস’ বলে কটাক্ষ বিজেপির।
  • রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী নারীদের অধিকার খর্ব করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ বিজেপি নেতা রামচন্দর রাওয়ের।
  • কংগ্রেসের দাবি, বিলটি সরাসরি সংরক্ষণের চেয়ে সীমানা নির্ধারণ বা ডিলিমিটেশন ঘিরেই বেশি আবর্তিত।
  • লোকসভায় ভোটাভুটিতে বিলের পক্ষে ২৯৮ এবং বিপক্ষে ২৩০টি ভোট পড়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *