“তৃণমূলের জমানায় মহা জঙ্গলরাজ, বিদায় এখন সময়ের অপেক্ষা!”— বাঁকুড়া থেকে হুঙ্কার মোদীর

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার মাত্র চার দিন আগে জঙ্গলমহলের মাটি থেকে তৃণমূল কংগ্রেসকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরে এক বিশাল জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, তৃণমূলের বিদায় এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। প্রখর রোদ উপেক্ষা করে কয়েক ঘণ্টা ধরে জমায়েত হওয়া হাজার হাজার মানুষের ভিড়কে তিনি ‘শাসকদলের নিষ্ঠুর শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা’ হিসেবে বর্ণনা করেন। এদিন বিষ্ণুপুর ছাড়াও পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম এবং মেদিনীপুরে মোট চারটি জনসভা করে দক্ষিণ-পশ্চিমবঙ্গে দলের ভিত মজবুত করার কৌশল নেন প্রধানমন্ত্রী।
ভোটের মুখে অশান্ত নন্দীগ্রাম
নির্বাচনের আবহে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম। রবিবার দাউদপুর এলাকায় জেলা পরিষদের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা শামসুল ইসলামের বাড়িতে ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা, যার জেরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু তাজা হাতবোমা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস সৃষ্টির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে বিরোধী শিবির।
নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ও রাজনৈতিক সংঘাত
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বিজেপির পরিচয় হিসেবে ‘নারী শক্তি ও নিরাপত্তা’কে তুলে ধরেন এবং রাজ্যে বর্তমানে ‘জঙ্গলরাজ’ চলছে বলে তোপ দাগেন। পাল্টাপাল্টি হিসেবে বীরভূমের দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডলের গড়ে দাঁড়িয়ে হুঙ্কার দিয়েছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারও। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও অস্থিরতা বেড়েছে। হরমুজ প্রণালীতে ভারতীয় পতাকাবাহী দুটি জাহাজে ইরানের গুলিবর্ষণের ঘটনায় সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব জাতীয় রাজনীতিতেও পড়ছে।
এক ঝলকে
- বিষ্ণুপুরের সভা থেকে তৃণমূল সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
- নন্দীগ্রামে তৃণমূল নেতার বাড়িতে ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণ ও তাজা বোমা উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য।
- জঙ্গলমহল ও মেদিনীপুরে মেগা প্রচারের মাধ্যমে দক্ষিণ-পশ্চিমবঙ্গে শক্তি বাড়াচ্ছে বিজেপি।
- আন্তর্জাতিক জলসীমায় ভারতীয় জাহাজে গুলিবর্ষণের ঘটনায় সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ।