কানপুরে ৮০ কোটির মেগা সাইবার স্ক্যাম! ৩ মাসে ৬০০ জনকে ঠকিয়ে জালে দুই মাস্টারমাইন্ড

কানপুর পুলিশ ও লখনউ এসটিএফ যৌথ অভিযানে একটি আন্তঃরাজ্য সাইবার প্রতারক চক্রকে চিহ্নিত করে বিশাল সাফল্য পেয়েছে। পাঞ্জাব থেকে এই চক্রের দুই মূল হোতা, করণ কাসেরা ও গুলশন কুমারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে এই চক্রটি বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ৮০ কোটি টাকার বেশি লেনদেন করেছে। সাধারণ মানুষকে শেয়ার ট্রেডিংয়ে বিপুল মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে তারা এই বিশাল অংকের অর্থ হাতিয়ে নিত।
প্রতারণার অভিনব কৌশল ও নেটওয়ার্ক
এই চক্রটি মূলত ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে শিকার খুঁজত। ভুক্তভোগীদের একটি ভুয়া ইক্যুইটি গ্রুপে যুক্ত করে বিশেষ অ্যাপের মাধ্যমে বিনিয়োগ করতে উদ্বুদ্ধ করা হতো। বিনিয়োগের পর সেই অ্যাপ বন্ধ করে দিয়ে টাকা আত্মসাৎ করত তারা। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই কালো টাকা শনাক্তকরণ এড়াতে তারা অন্তত ৫ থেকে ৬টি স্তরের (লেয়ার) বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অর্থ স্থানান্তর করত। দিল্লির একটি নির্দিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মাত্র ৯০ দিনে ৮০ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেন এই জালিয়াতির গভীরতা স্পষ্ট করে দিয়েছে।
দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অপরাধের জাল
গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে আইফোন, চেক বই এবং এটিএম কার্ডসহ অসংখ্য নথি উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই একটি চক্রের বিরুদ্ধে সারা দেশে এনসিআরপি পোর্টালে ৬০০-এর বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে এবং উত্তরপ্রদেশেই ১৩টি এফআইআর নথিভুক্ত রয়েছে। এই জালিয়াতিতে কিছু ব্যাংক কর্মচারীর যোগসাজশ থাকার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে উদ্ধারকৃত ডিজিটাল ডিভাইসগুলো থেকে আন্তর্জাতিক কোনো চক্রের সাথে তাদের যোগাযোগ আছে কি না, তা নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ চলছে।
এক ঝলকে
- কানপুর ও লখনউ এসটিএফের অভিযানে পাঞ্জাব থেকে ২ প্রধান সাইবার প্রতারক গ্রেপ্তার।
- মাত্র ৩ মাসে ৮০ কোটি টাকার বেশি অবৈধ লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে।
- সারা দেশে এই চক্রের বিরুদ্ধে ৬০০-এর বেশি প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে।
- শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ ও মুনাফার টোপ দিয়ে সাধারণ মানুষের জমানো টাকা লুট করত এই দল।