বাবাই সন্তানের স্বাভাবিক অভিভাবক, বিশেষ কারণ ছাড়া হস্তক্ষেপ করবে না আদালত: বড় রায় হাইকোর্টের

বাবাই সন্তানের স্বাভাবিক অভিভাবক, বিশেষ কারণ ছাড়া হস্তক্ষেপ করবে না আদালত: বড় রায় হাইকোর্টের

সন্তানের হেফাজত নিয়ে মায়েদের করা ‘হেবিয়াস কর্পাস’ বা বন্দী প্রত্যক্ষীকরণ আবেদনের প্রেক্ষিতে এক যুগান্তকারী রায় দিয়েছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, হিন্দু আইন অনুযায়ী বাবা হলেন অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের স্বাভাবিক অভিভাবক। তাই কোনো আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ লঙ্ঘন করে বলপূর্বক সন্তানকে সরিয়ে না নিলে, বাবার কাছে সন্তানের থাকাকে অবৈধ বা আইনি পরিভাষায় ‘অবৈধ আটক’ হিসেবে গণ্য করা যাবে না।

আইনের ব্যাখ্যা ও আদালতের পর্যবেক্ষণ

বিচারপতি অনিল কুমার এই রায়ে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৬১ ধারার উল্লেখ করে জানান, একজন নাবালককে তার বৈধ অভিভাবকের থেকে দূরে রাখা অপরাধ। এক্ষেত্রে অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইনের ৪(২) ধারা অনুযায়ী পিতাকেই প্রাকৃতিক বা স্বাভাবিক অভিভাবক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। আদালত পর্যবেক্ষণ করেছে যে, ২০২২ সাল থেকে সন্তানরা তাদের বাবার সাথেই বসবাস করছে এবং সেখানে এমন কোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়নি যার কারণে আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

আবেদন খারিজের কারণ

মামলাকারী মা অভিযোগ করেছিলেন যে, তার প্রাক্তন স্বামী অস্ত্রের মুখে ভয় দেখিয়ে সন্তানদের জোর করে নিয়ে গেছেন। তবে আদালত তেজস্বিনী গৌড় বনাম শেখর জগদীশ প্রসাদ তিওয়ারি মামলার নজির টেনে জানায়, বন্দী প্রত্যক্ষীকরণ রিট তখনই কার্যকর হয় যখন হেফাজত সম্পূর্ণ বেআইনি হয়। শুধুমাত্র মায়ের থেকে আলাদা রাখার অভিযোগ বাবার হেফাজতকে অবৈধ প্রমাণ করার জন্য যথেষ্ট নয়। ফলে উচ্চ আদালত মায়ের সেই আবেদনটি খারিজ করে দেয়।

এক ঝলকে

  • আদালত জানিয়েছে হিন্দু নাবালক সন্তানের স্বাভাবিক বা ন্যাচারাল গার্ডিয়ান হলেন তার বাবা।
  • বলপূর্বক বা আদালতের নির্দেশ অমান্য না করলে বাবার কাছে সন্তানের থাকাকে ‘অবৈধ’ বলা যাবে না।
  • এলাহাবাদ হাইকোর্ট মায়ের করা ‘হেবিয়াস কর্পাস’ বা বন্দী প্রত্যক্ষীকরণ আবেদনটি খারিজ করেছে।
  • ৫ বছরের বেশি বয়সী দুই সন্তান ২০২২ সাল থেকে বাবার কাছে থাকায় আদালত এই সিদ্ধান্ত নেয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *