হবিবপুরে পদ্ম শিবিরে ধস নামিয়ে তৃণমূলের দিকে ঝুঁকছে আদিবাসী ও মতুয়ারা

মালদহ জেলার হবিবপুর বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটের সমীকরণ দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে। বিদায়ী বিজেপি বিধায়ক জোয়েল মুর্মুর বিরুদ্ধে উন্নয়নের অভাব ও জনবিচ্ছিন্নতার অভিযোগ তুলে ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয়দের একাংশ। বিশেষ করে বামনগোলা ব্লকের গোবিন্দপুর ও মহেশপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার আদিবাসী এবং মতুয়া সম্প্রদায়ের ভোটারদের একটি বড় অংশ এবার ঘাসফুল শিবিরের প্রার্থী অমল কিস্কুকে সমর্থনের প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়েছেন। দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও এলাকায় নূন্যতম নাগরিক পরিষেবা না পৌঁছানোর কারণেই এই রাজনৈতিক মোড়বদল বলে মনে করা হচ্ছে।
উন্নয়ন থমকে থাকার মাশুল
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিগত কয়েক বছরে এলাকায় রাস্তাঘাট, পানীয় জল এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রামগুলিতে সমস্যার সমাধান না হওয়ায় মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি মতুয়া সম্প্রদায়ের একাংশ কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকার ওপর বীতশ্রদ্ধ। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া এবং নাগরিকত্ব সংক্রান্ত নানা জটিলতায় কেন্দ্রের ওপর আস্থা হারিয়ে তাঁরা এখন বিকল্প হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে ঝুঁকছেন, যা আসন্ন নির্বাচনের ফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
পাল্টা চ্যালেঞ্জ বিজেপির
তৃণমূল প্রার্থী অমল কিস্কু জয়ের ব্যাপারে একশো শতাংশ আশাবাদী হলেও বিজেপি এই জনমতের পরিবর্তনকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। বিদায়ী বিধায়ক জোয়েল মুর্মু দাবি করেছেন, আদিবাসীদের যোগ্য সম্মান একমাত্র বিজেপিই দিয়েছে এবং ২৩ এপ্রিলের ভোটে সাধারণ মানুষ ব্যালটেই তার যোগ্য জবাব দেবেন। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, আদিবাসী ও মতুয়া ভোটব্যাংকের এই বিভাজন গেরুয়া শিবিরের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এক ঝলকে
- উন্নয়নের অভাবে হবিবপুরের বিজেপি বিধায়ক জোয়েল মুর্মুর ওপর ক্ষুব্ধ আদিবাসী ও মতুয়ারা।
- বিকল্প হিসেবে তৃণমূল প্রার্থী অমল কিস্কুকে সমর্থনের প্রকাশ্য ঘোষণা স্থানীয় ভোটারদের একাংশের।
- রাস্তা, পানীয় জল ও স্বাস্থ্য পরিষেবার বেহাল দশা এবং ভোটার তালিকায় নাম বাদ যাওয়াকে মূল কারণ হিসেবে দেখছেন বাসিন্দারা।
- ২৩ এপ্রিল হবিবপুরে নির্বাচন এবং ৪ মে ফলাফল ঘোষণার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে রাজনৈতিক দলগুলি।