‘মোদি সরকারের তোতা পাখি আয়কর দপ্তর’, বারুইপুরের সভা থেকে এজেন্টদের সতর্কবার্তা মমতার

বাংলার ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে বিরোধী শিবির তৃণমূলের পোলিং এজেন্টদের লক্ষ্যবস্তু করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার বারুইপুরের জনসভা থেকে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি সতর্কবার্তা দেন যে, প্রলোভন দেখিয়ে বা ষড়যন্ত্র করে এজেন্টদের কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে। কর্মীদের কোনো অপরিচিত ব্যক্তির দেওয়া পানীয় বা খাবার গ্রহণ না করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে না পেরে বিজেপি এখন অগণতান্ত্রিক পথ বেছে নিচ্ছে।
এজেন্সি নিয়ে তোপ ও তোতা পাখি কটাক্ষ
নির্বাচনী আবহে কেন্দ্রীয় এজেন্সির অতিসক্রিয়তা নিয়ে এদিন ফের সরব হয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। সম্প্রতি তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমারের বাড়িতে আয়কর হানার প্রসঙ্গ টেনে তিনি আয়কর দপ্তরকে ‘মোদি সরকারের তোতা পাখি’ বলে অভিহিত করেন। মমতার অভিযোগ, বিজেপি টাকার ‘হুন্ডি’ নিয়ে ঘুরছে এবং ইডি-সিবিআইকে ব্যবহার করে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করছে। গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে ব্যর্থ হয়েই গেরুয়া শিবির কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে বলে তিনি দাবি করেন।
কমিশন ও ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্ক
এদিনের সভা থেকে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তাদের বদলি এবং কমিশনের নিযুক্ত আধিকারিকদের ভূমিকা নিয়ে তিনি কড়া সমালোচনা করেন। এমনকি ভোটার তালিকা থেকে বেছে বেছে নাম বাদ দেওয়ার একটি গুরুতর অভিযোগও তুলেছেন তিনি। মমতার দাবি, সুপ্রিম কোর্টে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর যে ৩২ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল, চক্রান্ত করে সেখান থেকেও নাম মুছে ফেলা হচ্ছে। নির্বাচনী ময়দানে এই ‘অদৃশ্য’ হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে তিনি দলীয় কর্মীদের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
এক ঝলকে
- ভোটকেন্দ্রে তৃণমূল এজেন্টদের প্রলোভন ও ষড়যন্ত্র থেকে দূরে থাকার নির্দেশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
- আয়কর দপ্তরকে মোদির ‘তোতা পাখি’ বলে কটাক্ষ ও কেন্দ্রীয় এজেন্সির অপব্যবহারের অভিযোগ।
- ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ।
- বারুইপুরের সভা থেকে কর্মীদের সতর্ক থেকে গণতান্ত্রিক লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ডাক।