‘ভোটের পর এই পুলিশই উল্টো করে ঝুলিয়ে সোজা করবে’: হুঁশিয়ারি সুকান্তের

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে বীরভূমের মাটিতে দাঁড়িয়ে তৃণমূলের দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডলকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। শনিবার ময়ূরেশ্বরের বীরচন্দ্রপুরের জনসভা থেকে তিনি দাবি করেন, বীরভূমে পদ্মফুলের জয় হলে তার কম্পন সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তান ও বাংলাদেশেও অনুভূত হবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, অনুব্রত মণ্ডলের গড়ে দাঁড়িয়ে সুকান্তের এই মন্তব্য আগামী নির্বাচনের আগে জেলায় রাজনৈতিক উত্তাপ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
তৃণমূলের দাপট ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বার্তা
অনুব্রত মণ্ডলের নাম না নিলেও তাঁকে ‘নকল বাঘ’ ও ‘বিড়ালে’র সঙ্গে তুলনা করে সুকান্ত মজুমদার বিজেপি কর্মীদের মনোবল বাড়ানোর চেষ্টা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূলের শাসনে যে পুলিশ প্রশাসন শাসকদলের অনুগত হয়ে কাজ করছে, বিজেপি সরকার গড়লে সেই পুলিশই অভিযুক্ত নেতাদের ‘উল্টো করে ঝুলিয়ে সোজা করবে’। একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীকেও প্রস্তুত থাকার বার্তা দিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, কোনো প্রকার সন্ত্রাস বরদাস্ত করা হবে না।
সীমান্তের প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সমীকরণ
সুকান্ত মজুমদারের বক্তব্যে হিন্দুত্ববাদী আবেগ ও জাতীয়তাবাদের মিশেল স্পষ্ট ছিল। তিনি দাবি করেন, বীরভূমের ভোটের ফলাফল সরাসরি প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর ওপর প্রভাব ফেলবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বীরভূমের মতো স্পর্শকাতর জেলায় সুকান্ত মজুমদারের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান মূলত বিজেপি কর্মীদের সক্রিয় করা এবং শাসকদলের প্রভাব কমানোর একটি কৌশল। নির্বাচনের আগে এই বাগযুদ্ধ জেলাজুড়ে বড় ধরনের মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এক ঝলকে
- অনুব্রত মণ্ডলের গড়ে দাঁড়িয়ে সুকান্ত মজুমদারের তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ।
- বিজেপি ক্ষমতায় এলে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাদের কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি।
- বীরভূমের জয়কে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের ওপর প্রভাব ফেলার হাতিয়ার হিসেবে বর্ণনা।
- কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সক্রিয় থাকার নির্দেশ এবং রাজ্য পুলিশকে কড়া সতর্কবার্তা।