বেতন বৃদ্ধির চাপে কুপোকাত নয়ডার ক্ষুদ্র শিল্প মালিকরা, গণহারে কারখানা সরিয়ে নেওয়ার হুঁশিয়ারি

উত্তরপ্রদেশের নয়ডার ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (MSME) খাতে গভীর সংকট তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ২১ শতাংশ বৃদ্ধির সরকারি সিদ্ধান্তের ফলে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ওপর আর্থিক চাপ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। অনেক কারখানা মালিকই এখন সরকারকে দেওয়া তাদের আগের সমর্থন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নতুন নিয়ম কার্যকরের চেষ্টা চালানো হলেও মালিকপক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে তা বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
আর্থিক বোঝা ও ওভায়টাইম জটিলতা
উদ্যোক্তাদের দাবি, মজুরি বাড়ার ফলে পরোক্ষভাবে ওভারটাইম বা অতিরিক্ত কাজের পারিশ্রমিক প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে। উদাহরণস্বরূপ, আগে যেখানে একজন শ্রমিক মাসে ২০,০০০ টাকা উপার্জন করতেন, নতুন নিয়মে ওভারটাইম মিলিয়ে সেই অঙ্ক দাঁড়াচ্ছে ৩২,০০০ টাকায়। এই অতিরিক্ত ১২,০০০ টাকার বোঝা বহন করা ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের পক্ষে আসাম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে আট ঘণ্টার মাসিক বেতন ১৩,০০০ টাকা থেকে বেড়ে ১৫,৭৩০ টাকা হওয়ায় ওভারটাইমের দৈনিক হার ২৪০ টাকা থেকে লাফিয়ে ৫৬০ টাকায় পৌঁছেছে।
শিল্পের স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা
ক্ষুদ্র শিল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রভিডেন্ট ফান্ড (PF) এবং ইএসআইসি (ESIC) সহ একজন শ্রমিকের পেছনে খরচ এখনকার তুলনায় আকাশচুম্বী হয়ে যাচ্ছে। এই বাড়তি ব্যয়ের ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের মেরুদণ্ড ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। এনটিইউসি জেলা সভাপতির অভিযোগ, ২০১১ সালের পর মজুরি নির্ধারণের জন্য কোনো যথাযথ কমিটি গঠন করা হয়নি এবং বর্তমান প্রক্রিয়াটিও নিয়ম মেনে হচ্ছে না। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে উৎপাদন খরচ সামলাতে না পেরে অনেক শিল্প ইউনিট নয়ডা থেকে অন্য রাজ্যে সরিয়ে নিতে বাধ্য হবেন বলে মালিকরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
এক ঝলকে
- ন্যূনতম মজুরি ২১ শতাংশ বৃদ্ধির ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে আর্থিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
- ওভারটাইম খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় শ্রমিক প্রতি খরচ বেড়েছে প্রায় ১২,০০০ টাকা।
- শ্রমিক পিছু অতিরিক্ত ব্যয়ের ভার সামলাতে না পেরে অনেক উদ্যোক্তা কারখানা সরিয়ে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন।
- মালিকপক্ষের দাবি, অবাস্তব এই বেতন কাঠামো এমএসএমই খাতের উন্নয়নের অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।