মোদীর ভাষণ আসলে ‘নির্বাচনী স্ট্যান্ট’! আদর্শ আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে কমিশনের দ্বারস্থ সিপিআই সাংসদ

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাম্প্রতিক জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণকে ‘নির্বাচনী স্টন্ট’ হিসেবে অভিহিত করে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে সিপিআই। দলের সাংসদ পি. সন্তোষ কুমার সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়ে এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ৫টি রাজ্যে বর্তমানে আদর্শ নির্বাচনী আচরণবিধি জারি থাকায় প্রধানমন্ত্রীর এই পদক্ষেপ নৈতিকভাবে প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
সরকারি সম্পদের অপব্যবহারের অভিযোগ
অভিযোগপত্রে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণ শুধুমাত্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয়, বরং এটি দূরদর্শন ও সংসদ টিভির মতো সরকারি প্ল্যাটফর্মে প্রচার করা হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, করদাতাদের অর্থে পরিচালিত সরকারি প্রচারমাধ্যমকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের স্বার্থে ব্যবহার করা সরাসরি নির্বাচনী বিধিভঙ্গ। এটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় ‘লেভেল প্লেইং ফিল্ড’ বা সমান সুযোগের পরিবেশকে নষ্ট করছে।
প্রভাবিত হতে পারে জনমত
সাংসদ সন্তোষ কুমারের মতে, যেসব বিষয় নিয়ে বর্তমানে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে, সেগুলোকে ভাষণের মাধ্যমে প্রভাবিত করার চেষ্টা চালানো হয়েছে। তিনি নির্বাচন কমিশনকে দ্রুত তদন্ত শুরু করে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আবেদন জানিয়েছেন। কমিশনের পক্ষ থেকে সময়োপযোগী পদক্ষেপ না নিলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা কমতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কমিশন এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি।
এক ঝলকে
- প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণকে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন বলে দাবি সিপিআই সাংসদের।
- সরকারি প্রচারমাধ্যম দূরদর্শন ও সংসদ টিভি ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ।
- ৫টি রাজ্যে নির্বাচনী আচরণবিধি চলাকালীন সরকারি সম্পদের অপব্যবহার নিয়ে নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ।
- ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা বজায় রাখার জোরালো দাবি।