সতর্ক থাকুন ডায়াবেটিস রোগীরা, প্রতিদিনের পরিচিত ডালই বাড়িয়ে দিচ্ছে রক্তের শর্করা!

ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগীদের সুস্থতায় খাদ্যাভ্যাস সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পুষ্টির উৎস হিসেবে ডাল পরিচিত হলেও সব ধরনের ডাল সুগার রোগীদের জন্য নিরাপদ নয়। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু নির্দিষ্ট ডাল কার্বোহাইড্রেটের আধিক্য এবং উচ্চ গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের কারণে রক্তে শর্করার মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে সুস্থ থাকার বদলে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় থাকা এই ডালগুলো অনেকটা বিষের মতোই কাজ করছে শরীরের ওপর।
ঝুঁকিপূর্ণ ডালের তালিকায় যা আছে
আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় জনপ্রিয় অড়হর বা তূর ডাল পুষ্টিগুণে ভরপুর হলেও ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি বিপদের কারণ হতে পারে। এতে থাকা উচ্চমাত্রার কার্বোহাইড্রেট রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ দ্রুত বৃদ্ধি করে। একইভাবে ছোলার ডাল এবং মসুর ডালও মাঝারি থেকে উচ্চ গ্লাইসেমিক ইনডেক্স সম্পন্ন হওয়ায় এগুলো রক্তে শর্করার ভারসাম্য নষ্ট করে। এছাড়া বিউলির ডাল বা মাষকলাই হজমে ভারী হওয়ায় এটি রক্তে শর্করার মাত্রার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সতর্কতা ও সুস্থ থাকার উপায়
চিকিৎসকদের মতে, ডায়াবেটিস রোগীদের ডাল নির্বাচনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সচেতন হতে হবে। মুগ ডালের মতো উচ্চ ফাইবার সমৃদ্ধ ডাল শরীরের জন্য তুলনামূলক নিরাপদ। কোনো কারণে যদি কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ ডাল খেতেই হয়, তবে তা প্রচুর পরিমাণ সবুজ শাকসবজির সাথে মিশিয়ে খাওয়া উচিত। এতে গ্লাইসেমিক লোড কিছুটা কমে আসে। নিয়মিত রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা এবং ডায়েটেশিয়ানের পরামর্শ অনুযায়ী খাবারের পরিমাণ নির্ধারণ করা এই ঝুঁকি কমানোর একমাত্র উপায়।
এক ঝলকে
অড়হর ও ছোলার ডালের উচ্চ কার্বোহাইড্রেট রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।
গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বেশি থাকায় মসুর ও বিউলির ডাল রোগীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
ফাইবার সমৃদ্ধ মুগ ডাল ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বেশি উপকারী ও নিরাপদ।
খাদ্যাভ্যাসে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ এবং পরিমিত পরিমাণে ডাল খাওয়া জরুরি।