পারিবারিক কলহের নৃশংস পরিণতি, তলোয়ার দিয়ে স্ত্রী ও সন্তানকে খুন করে রাতভর লাশের পাশে বসে রইলেন স্বামী!

পারিবারিক কলহের নৃশংস পরিণতি, তলোয়ার দিয়ে স্ত্রী ও সন্তানকে খুন করে রাতভর লাশের পাশে বসে রইলেন স্বামী!

রাজস্থানের জয়পুর গ্রামীণ এলাকার দুদু ব্লকের বিচুন গ্রামে এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। পারিবারিক বিবাদের জেরে বুধবার মাঝরাতে এক ব্যক্তি তার স্ত্রী ও ৮ বছর বয়সী শিশুকন্যাকে তলোয়ার দিয়ে গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করেছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি হত্যাকাণ্ডের পর পালিয়ে না গিয়ে প্রায় সাত ঘণ্টা রক্তাক্ত লাশের পাশেই বসে ছিলেন। ভোরে গ্রামবাসীরা প্রাতঃভ্রমণে বের হলে তিনি নিজেই বাইরে এসে ঠান্ডা মাথায় খুনের কথা স্বীকার করেন।

পারিবারিক বিবাদের ভয়াবহ রূপ
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, গত দুই মাস ধরে ওই পরিবারে চরম অশান্তি চলছিল। বুধবার রাত ১২টা নাগাদ বিবাদ চরমে পৌঁছালে অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘর থেকে তলোয়ার বের করে নিজের স্ত্রী ও ঘুমন্ত কন্যাকে আক্রমণ করেন। পুরো রাত নিস্তব্ধ ঘরে মৃতদেহের সাথে কাটানোর পর সকাল ৭টা নাগাদ তিনি প্রতিবেশীদের জানান যে, তিনি দুজনকে মেরে ফেলেছেন। এই স্বীকারোক্তি শোনার পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশি তৎপরতা ও তদন্ত
ঘটনার খবর পেয়ে মৌখমপুরা থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং অভিযুক্তকে হেফাজতে নেয়। ফরেনসিক (FSL) দল ঘর থেকে রক্তের নমুনা এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রটি জব্দ করেছে। ঘরজুড়ে ছড়িয়ে থাকা রক্ত এবং মা-মেয়ের ক্ষতবিক্ষত দেহ দেখে পুলিশ কর্মকর্তারাও স্তম্ভিত হয়ে যান। বর্তমানে মৃতদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এই জঘন্য অপরাধের পেছনে কেবল তাৎক্ষণিক রাগ নাকি দীর্ঘদিনের কোনো মানসিক অস্থিরতা কাজ করছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। একটি সাজানো সংসার মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এক ঝলকে

রাজস্থানের দুদু এলাকায় পারিবারিক অশান্তির জেরে স্ত্রী ও ৮ বছরের মেয়েকে তলোয়ার দিয়ে খুন।

খুনের পর অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘ ৭ ঘণ্টা লাশের পাশে বসে ছিলেন।

ভোরে গ্রামবাসীদের কাছে নিজেই খুনের কথা স্বীকার করলে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ ও তদন্তের জন্য ফরেনসিক টিম মোতায়েন করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *