সর্দি ভেবে চিকিৎসা চললেও শিশুর গলায় আটকে ছিল সেফটি পিন, প্রাণ বাঁচাল চিকিৎসকদের তৎপরতা

সর্দি ভেবে চিকিৎসা চললেও শিশুর গলায় আটকে ছিল সেফটি পিন, প্রাণ বাঁচাল চিকিৎসকদের তৎপরতা

মহারাষ্ট্রের দাপোলি এলাকায় একটি সাত মাস বয়সী শিশুর শ্বাসনালীতে দীর্ঘ এক মাস ধরে সেফটি পিন আটকে থাকার রুদ্ধশ্বাস ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। শিশুটি অনবরত সর্দি ও কাশিতে ভুগছিল দেখে পরিবারের সদস্যরা তাকে সাধারণ ঠান্ডা লাগার ওষুধ খাওয়াচ্ছিলেন। তবে দীর্ঘ চিকিৎসাতেও কোনো উন্নতি না হওয়ায় চিকিৎসকরা এক্স-রে করার পরামর্শ দেন। পরীক্ষার রিপোর্টে দেখা যায়, একটি ধারালো সেফটি পিন শিশুটির খাদ্যনালীর গভীরে বিপজ্জনকভাবে আটকে আছে।

চিকিৎসকদের তৎপরতা ও সফল অস্ত্রোপচার

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর কোনো বিলম্ব না করে জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা। অত্যন্ত জটিল এবং ঝুঁকিপূর্ণ এই প্রক্রিয়ায় চিকিৎসকদের বিশেষ দল সফলভাবে পিনটি বের করে আনতে সক্ষম হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মতে, পিনটি যে অবস্থানে ছিল, তাতে সামান্য নড়াচড়াতেও খাদ্যনালী ছিঁড়ে গিয়ে বড় ধরনের রক্তক্ষরণ বা প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল। চিকিৎসকদের সঠিক সময়ে নেওয়া পদক্ষেপেই শেষ পর্যন্ত শিশুটি প্রাণে বেঁচে যায়।

সতর্কতা ও ঘরোয়া ঝুঁকি

এই ঘটনাটি শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। চিকিৎসকদের মতে, ছোট শিশুদের কৌতূহলী প্রবণতার কারণে ঘরের মেঝেতে বা বিছানায় পড়ে থাকা সূক্ষ্ম বস্তু তারা মুখে পুরে ফেলে। সামান্য অসতর্কতা কীভাবে ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, এই ঘটনা তার প্রমাণ। বর্তমানে শিশুটি সম্পূর্ণ বিপদমুক্ত এবং সুস্থ থাকলেও এই অভিজ্ঞতা অভিভাবকদের জন্য একটি বড় ধরনের শিক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এক ঝলকে

  • সাত মাস বয়সী শিশুর গলায় টানা এক মাস ধরে সেফটি পিন আটকে ছিল।
  • সর্দি-কাশি ভেবে সাধারণ চিকিৎসা চলায় আসল সমস্যাটি আড়ালে রয়ে যায়।
  • এক্স-রে রিপোর্টে খাদ্যনালীতে ধারালো পিনের অস্তিত্ব ধরা পড়লে জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়।
  • চিকিৎসকদের দক্ষতায় পিনটি বের করা সম্ভব হয়েছে এবং শিশুটি এখন বিপদমুক্ত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *