‘জাতির উদ্দেশে ভাষণ ভীরু ও দ্বিচারিতাপূর্ণ’, মোদীকে কড়া চ্যালেঞ্জ মমতার

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণকে কেন্দ্র করে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত চরমে পৌঁছাল। রবিবার এক সোশ্যাল মিডিয়া বার্তায় প্রধানমন্ত্রীকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মোদীর ভাষণকে ‘ভিরু ও দ্বিচারিতায় ভরা’ বলে অভিহিত করে তিনি দাবি করেন, দেশের মহিলাদের স্বার্থরক্ষার চেয়ে রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধিই এখন কেন্দ্রের প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। তৃণমূল নেত্রীর মতে, সংসদে দাঁড়িয়ে সরাসরি কথা না বলে ভাষণের আড়ালে রাজনীতি করা হচ্ছে।
নারী সংরক্ষণ ও ডিলিমিটেশন বিতর্ক
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দেন যে, তৃণমূল কংগ্রেস কখনোই নারী সংরক্ষণের বিরোধী ছিল না। বরং দলের অভ্যন্তরে মহিলা প্রতিনিধিদের উচ্চ হার উল্লেখ করে তিনি জানান, নারী সংরক্ষণের আড়ালে কেন্দ্র আসলে ‘ডিলিমিটেশন’ বা জনবিন্যাস প্রক্রিয়া চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বাবাসাহেব আম্বেদকরের তৈরি সংবিধানের কাঠামো বদলে দিয়ে রাজ্যগুলির রাজনৈতিক ভারসাম্যে আঘাত হানার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ২০২৩ সালে বিল পাশ হওয়া সত্ত্বেও তা কার্যকর করতে কেন এত দেরি করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক সংঘাতের প্রভাব
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর ভাষণে নারী সংরক্ষণ বিল বিলম্বিত হওয়ার জন্য সরাসরি তৃণমূলসহ বিরোধী দলগুলিকে দায়ী করেছেন। তাঁর দাবি, বিরোধীরা সংকীর্ণ রাজনীতির কারণে মহিলাদের স্বপ্ন পূরণ হতে দিচ্ছে না। পাল্টাপাল্টি এই অভিযোগের ফলে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক আবহাওয়া আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ডিলিমিটেশন এবং নারী অধিকারের মতো স্পর্শকাতর ইস্যুগুলো আগামিদিনে জাতীয় ও রাজ্য রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এক ঝলকে
- প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণকে ‘দ্বিচারিতাপূর্ণ’ বলে আক্রমণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
- নারী সংরক্ষণের আড়ালে ডিলিমিটেশন চাপিয়ে সংবিধান পরিবর্তনের আশঙ্কায় সরব তৃণমূল নেত্রী।
- ২০২৩ সালে বিল পাশ হলেও তা দ্রুত কার্যকর না করা নিয়ে কেন্দ্রের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
- বিরোধীদের অসহযোগিতার কারণেই নারী সংরক্ষণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে পাল্টা তোপ দেগেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী।