রোবট দেখে পালাচ্ছে বুনো শুয়োর! প্রযুক্তির ভয়ে কুপোকাত পোল্যান্ডের ‘জন্তুবাহিনী’

সাম্প্রতিক সময়ে পোল্যান্ডের উপকূলীয় শহরগুলোতে বন্যশূকরের উপদ্রব আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। খাবারের সন্ধানে এসব বন্যপ্রাণী লোকালয়, পার্ক এবং জনাকীর্ণ রাস্তায় চলে আসায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছিল। এই সংকট নিরসনে পোল্যান্ড কর্তৃপক্ষ প্রথাগত পদ্ধতির পরিবর্তে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নিয়েছে। তারা ‘এডওয়ার্ড’ নামক একটি হিউম্যানয়েড বা মানবরূপী রোবট মোতায়েন করেছে, যা সফলভাবে বন্যশূকরের পালকে লোকালয় থেকে সরিয়ে দিচ্ছে।
প্রযুক্তির অভিনব প্রয়োগ
রোবট এডওয়ার্ড মূলত দুই পায়ে হাঁটতে সক্ষম একটি যন্ত্র। যখনই রাস্তার পাশে বা জনপদে বন্যশূকরের উপস্থিতি শনাক্ত হচ্ছে, তখন কর্মকর্তারা রোবটটিকে সেদিকে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। মানুষের মতো অবয়ব এবং যান্ত্রিক অঙ্গভঙ্গির কারণে শূকরগুলো আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে। রোবটটি বন্যশূকরদের অনুসরণ করলে প্রাণিগুলো কোনো ক্ষতি না করে সরাসরি বনের দিকে ফিরে যাচ্ছে। এই পুরো প্রক্রিয়াটির একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়াচ্ছে।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও নিরাপত্তা
এই হাই-টেক উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য হলো মানুষ এবং বন্যপ্রাণীর মধ্যে সরাসরি সংঘাত এড়ানো। কোনো প্রাণিকে আঘাত না করে বা মানুষের জীবন ঝুঁকিতে না ফেলে বন্যপ্রাণী নিয়ন্ত্রণ করার এটি একটি মানবিক ও কার্যকর উপায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই প্রযুক্তিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) যুক্ত করা গেলে রোবটগুলো নিজেরাই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্যপ্রাণী শনাক্ত করে তাদের জঙ্গলে ফেরত পাঠাতে সক্ষম হবে। বিশেষ করে ভারত বা বাংলাদেশের মতো দেশে, যেখানে হাতি বা চিতার লোকালয়ে প্রবেশের ঘটনা নিয়মিত ঘটে, সেখানে এই প্রযুক্তি প্রাণহানি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
zaganiam dziki do lasu pic.twitter.com/Pjxkn0kfob
— Edward Warchocki (@edwardwarchocki) April 12, 2026
এক ঝলকে
- পোল্যান্ডের উপকূলীয় শহরে বন্যশূকরের উপদ্রব ঠেকাতে ‘এডওয়ার্ড’ নামক রোবট ব্যবহার করা হচ্ছে।
- রোবটটি মানবরূপী এবং হাঁটাচলা করতে পারে, যা দেখে ভয় পেয়ে বন্যশূকর লোকালয় ত্যাগ করছে।
- কোনো প্রাণিকে শারীরিকভাবে আঘাত না করে জনপদ নিরাপদ রাখার জন্য এই প্রযুক্তি প্রয়োগ করা হয়েছে।
- ভবিষ্যতে এই পদ্ধতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের পরিকল্পনা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।