ঘুষ নিতে গিয়ে হাতেনাতে গ্রেপ্তার ডিজিসিএ কর্মকর্তা, উদ্ধার লক্ষাধিক টাকা ও সোনা!

ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা বা ডিজিসিএ-র সদর দপ্তরে সিবিআই-এর এক ঝোড়ো অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছেন সংস্থাটির এয়ারওয়ার্দিনেস ডিরেক্টরেটের উপ-মহাপরিচালক মুদাভাথ দেউলা। একটি বেসরকারি কো ম্পা নির ড্রোন আমদানির আবেদন মঞ্জুর করার বিনিময়ে আড়াই লক্ষ টাকা ঘুষ নেওয়ার সময় তাকে হাতেনাতে ধরা হয়। এই ঘটনায় একটি বড় কর্পোরেট গ্রুপের পদস্থ কর্মকর্তা ভরত মাথুরকেও গ্রেপ্তার করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
ঘুষের বিনিময়ে ড্রোন আমদানির অনুমতি
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, নির্দিষ্ট একটি অ্যারোস্পেস কো ম্পা নিকে ড্রোন আমদানির ছাড়পত্র পাইয়ে দিতে মোটা অঙ্কের আর্থিক সুবিধা দাবি করেছিলেন ওই সরকারি কর্মকর্তা। সিবিআই একটি বিশেষ ফাঁদ পেতে তাকে ঘুষের আড়াই লক্ষ টাকাসহ পাকড়াও করে। এই অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করার অভিযোগে ভরত মাথুরকেও হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
বিপুল সম্পদ উদ্ধার ও তদন্তের প্রভাব
গ্রেপ্তারের পর দিল্লির চারটি পৃথক স্থানে তল্লাশি চালিয়ে সিবিআই আরও ৩৭ লক্ষ টাকা নগদ এবং বিপুল পরিমাণ সোনা ও রুপার কয়েন জব্দ করেছে। এছাড়া বেশ কিছু ডিজিটাল নথিও তদন্তের স্বার্থে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই ঘটনার ফলে ড্রোন আমদানির অনুমোদন প্রক্রিয়ায় যে গভীর দুর্নীতির জাল রয়েছে, তা প্রকাশ্যে এসেছে। এর প্রভাবে আগামীতে ডিজিসিএ-র অন্দরে কড়াকড়ি বাড়বে এবং বিভিন্ন বেসরকারি কো ম্পা নির আবেদন যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় আমূল পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- ড্রোন আমদানির অনুমতি দিতে আড়াই লক্ষ টাকা ঘুষ নেওয়ার সময় ডিজিসিএ-র উপ-মহাপরিচালক গ্রেপ্তার।
- ঘুষ দেওয়ার অপরাধে একটি বড় কর্পোরেট গ্রুপের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্টকেও সিবিআই হেফাজতে নিয়েছে।
- অভিযুক্তের বাড়ি ও অফিস থেকে ৩৭ লক্ষ টাকা নগদ এবং সোনা-রুপার মুদ্রা উদ্ধার করা হয়েছে।
- সরকারি দপ্তরে দুর্নীতির এই ঘটনা বিমান চলাচল সংক্রান্ত ছাড়পত্র প্রদান প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে।