“মাথা ঠান্ডা রাখুন, শান্ত থাকুন!” মোদীর ‘গুন্ডারাজ’ কটাক্ষের পাল্টা জবাব অভিষেকের

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরগরম বাংলার রাজনীতি। বাঁকুড়ার নির্বাচনী সভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে রাজ্যে ‘গুন্ডারাজ’ চলছে বলে অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এমনকি ২৯ এপ্রিলের আগে দলের দুষ্কৃতী ও সিন্ডিকেট রাজের সাথে যুক্তদের থানায় আত্মসমর্পণের হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এই কড়া বার্তার পাল্টা জবাবে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগরের জনসভা থেকে সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
অভিষেকের পাল্টা চ্যালেঞ্জ ও রাজনৈতিক অবস্থান
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আপনি দেশের মানুষের প্রধানমন্ত্রী, পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে বলছি, আপনি শান্ত থাকুন এবং মাথা ঠান্ডা রাখুন।” অভিষেকের দাবি, কেন্দ্রীয় সংস্থা, আদালত ও নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করেও বিজেপি সুবিধা করতে পারছে না বলেই প্রধানমন্ত্রী এখন সাধারণ মানুষকে জেল খাটানোর ভয় দেখাচ্ছেন। তিনি মনে করেন, প্রধানমন্ত্রী বুঝতে পেরেছেন যে সমস্ত চেষ্টা সত্ত্বেও বাংলায় তৃণমূলের জনসমর্থনে চিড় ধরানো সম্ভব হচ্ছে না এবং আগামী দিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারই ক্ষমতায় ফিরবে।
বকেয়া পাওনা ও উন্নয়নের দাবি
রাজনৈতিক বাদানুবাদের পাশাপাশি কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে উন্নয়নের মাপকাঠিতেও কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন অভিষেক। তিনি সাফ জানান, ভোটের পরে নয়, বরং এখনই কেন্দ্র সরকারের উচিত রাজ্যের মৎস্যজীবী, যুবক ও মহিলাদের বকেয়া টাকা সরাসরি তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া। সাগরের সভা থেকে স্থানীয় উন্নয়নমূলক প্রকল্পের খতিয়ান তুলে ধরে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, মুড়িগঙ্গা নদীর উপর নির্মীয়মান সেতু আগামী দুই বছরের মধ্যে জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে।
২০২৬-এর নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে, ততই আক্রমণ ও প্রতি-আক্রমণে উত্তপ্ত হচ্ছে রাজনৈতিক ময়দান। প্রধানমন্ত্রীর আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত অভিযোগ এবং অভিষেকের উন্নয়নের তুরুপের তাসের লড়াই এখন বাংলার ব্যালট বক্সে কী প্রভাব ফেলে, সেটাই দেখার।
এক ঝলকে
রাজনৈতিক লড়াইয়ের মাঝে রাজ্যের বকেয়া পাওনা মেটানোর জন্য কেন্দ্রের প্রতি দাবি জানান তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতা।
বাঁকুড়ার সভা থেকে রাজ্যে ‘গুন্ডারাজ’ ও ‘সিন্ডিকেট রাজ’ নিয়ে কড়া আক্রমণ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যের জবাবে সাগরের সভা থেকে তাঁকে ‘মাথা ঠান্ডা রাখার’ পরামর্শ দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
অভিষেক অভিযোগ করেছেন যে, বিজেপি কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করেও রাজনৈতিক জয় নিশ্চিত করতে পারছে না।