ভোটের ময়দানে কড়া কমিশন: AI ও ভুয়া পোস্ট রুখতে ৩ ঘণ্টার ‘ডেডলাইন’!

ভোটের ময়দানে কড়া কমিশন: AI ও ভুয়া পোস্ট রুখতে ৩ ঘণ্টার ‘ডেডলাইন’!

ভারতের একাধিক রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের উত্তাপ এখন তুঙ্গে। তবে শুধু রাজপথেই নয়, যুদ্ধের ময়দান এখন ডিজিটাল দুনিয়াতেও। এই পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া খবর এবং এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি বিভ্রান্তিকর আধেয় (কনটেন্ট) রুখতে নজিরবিহীন কঠোর অবস্থান নিয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসিআই)। কমিশন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে পারে এমন কোনো ডিজিটাল কনটেন্ট নজরে আসার তিন ঘণ্টার মধ্যেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কঠোর নজরদারি ও আইনি ব্যবস্থা
নির্বাচন কমিশনের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, নির্বাচনী প্রচারের ক্ষেত্রে কোনো দল বা প্রার্থী যদি এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে কোনো ছবি বা ভিডিও তৈরি করেন, তবে সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে যে এটি এআই দ্বারা নির্মিত। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে তথ্যের উৎস জানানোও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। গত ১৫ মার্চ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত ১১ হাজারেরও বেশি বিতর্কিত সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ও ইউআরএলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পোস্ট সরিয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে এফআইআর দায়ের করার মতো কঠোর পদক্ষেপ।

দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তি ও সাইলেন্স পিরিয়ড
ভোটগ্রহণের পূর্ববর্তী ৪৮ ঘণ্টার ‘সাইলেন্স পিরিয়ড’ বা নীরবতার সময়ে টেলিভিশন, রেডিও এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো প্রকার নির্বাচনী প্রচার চালানো যাবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। সাধারণ নাগরিক ও দলগুলো নির্বাচনী বিধি ভঙ্গের অভিযোগ জানাতে ‘সি-ভিজিল’ (C-Vigil) অ্যাপ ব্যবহার করছেন। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ১৫ এপ্রিল থেকে ১৯ এপ্রিলের মধ্যে জমা পড়া ৩ লক্ষ ২৩ হাজারেরও বেশি অভিযোগের মধ্যে প্রায় ৯৬ শতাংশই মাত্র ১০০ মিনিটের মধ্যে নিষ্পত্তি করেছে কমিশন। প্রযুক্তির এই অপব্যবহার রোধে আইটি অ্যাক্ট ও আদর্শ আচরণবিধি (এমসিসি) প্রয়োগে বিন্দুমাত্র ছাড় না দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে ইসিআই।

এক ঝলকে

ভোটগ্রহণের পূর্ববর্তী ৪৮ ঘণ্টায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সব ধরনের নির্বাচনী প্রচার নিষিদ্ধ।

বিভ্রান্তিকর এআই কনটেন্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসার তিন ঘণ্টার মধ্যে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ।

নির্বাচনী বিধি ভঙ্গের দায়ে এ পর্যন্ত ১১ হাজারেরও বেশি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ।

‘সি-ভিজিল’ অ্যাপে আসা ৯৬ শতাংশ অভিযোগ মাত্র ১০০ মিনিটের মধ্যে নিষ্পত্তি করেছে কমিশন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *