মৃত ভেবে দাফন সম্পন্ন, ১৬ দিন পর খনি খুঁড়তেই বেরিয়ে এলেন ‘জীবিত’ আব্দুল!

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় এক অবিশ্বাস্য অলৌকিক ঘটনার সাক্ষী হয়েছে বিশ্ব। মারদান জেলার একটি মার্বেল খনিতে ভয়াবহ ধসের ১৬ দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে আব্দুল ওয়াহাব নামের এক শ্রমিককে। গত ৩১ মার্চ খনি ধসের পর ৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হলে একটি বিকৃত দেহকে আব্দুল মনে করে দাফন করেছিল তার পরিবার। দীর্ঘ দুই সপ্তাহের বেশি সময় শোক পালনের পর তার ফিরে আসার সংবাদে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
মৃত্যুপুরী থেকে ফেরার অবিশ্বাস্য লড়াই
৩১ মার্চের ওই দুর্ঘটনায় খনির ভেতরে আটকা পড়েছিলেন ১২ জন শ্রমিক। উদ্ধারকারী দল অধিকাংশ মরদেহ উদ্ধার করতে পারলেও একজনের খোঁজ পায়নি। খনির সুড়ঙ্গ থেকে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলার সময় হঠাৎ ভেতর থেকে আর্তনাদ শুনতে পান শ্রমিকরা। ‘আমি জীবিত আছি, আমাকে বের করো’—এমন চিৎকার শুনে হাত দিয়ে মাটি সরিয়ে দীর্ঘ ১৬ দিন পর আব্দুলকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ঘুটঘুটে অন্ধকার আর প্রতিকূল পরিবেশে কোনো খাদ্য বা সাহায্য ছাড়া এতদিন বেঁচে থাকা চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতেও বিস্ময়কর।
পরিবার ও স্থানীয়দের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
আব্দুলের পরিবার যে মরদেহটি দাফন করেছিল, সেটি ছিল অত্যন্ত বিকৃত। শনাক্ত করতে না পেরে তারা সেটিকে আব্দুল ভেবেই কবর দিয়েছিল। দীর্ঘ সময় পর খনি থেকে উদ্ধারের পর তার ভাই নাসিরের ফোনে কান্নার সংবাদ মুহূর্তেই শোকের পরিবেশকে উৎসবে রূপান্তর করে। এই ঘটনার পর এখন প্রশ্ন উঠেছে, যে দেহটি দাফন করা হয়েছিল সেটি আসলে কার? স্থানীয় প্রশাসন এখন সেই ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা করছে।
এক ঝলকে
- গত ৩১ মার্চ পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার মারদান জেলায় মার্বেল খনি ধসে আব্দুল ওয়াহাব নিখোঁজ হন।
- একটি বিকৃত মরদেহকে আব্দুল মনে করে ১৬ দিন আগেই কবর দেয় তার পরিবার।
- খনন কাজ চলাকালীন খনির গভীর সুড়ঙ্গ থেকে ১৬ দিন পর তাকে জীবিত উদ্ধার করেন সহকর্মীরা।
- দীর্ঘ সময় খাবার ও জলর অভাব সত্ত্বেও আব্দুল অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরায় এলাকায় বিস্ময় ছড়িয়েছে।