৪০ পেরনো মহিলাদের কিডনি কি অজান্তেই বিকল হচ্ছে! ৫ অভ্যাসে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ চিকিৎসকদের

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের কিডনি রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি। বিশেষ করে ৪০ বছর বয়স পার করার পর নারীদের মধ্যে পলিসিস্টিক কিডনি ডিজিজ এবং সিস্ট হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। তলপেটে ব্যথা, উচ্চ রক্তচাপ কিংবা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত আসার মতো উপসর্গগুলো মূলত কিডনির সমস্যার প্রাথমিক সংকেত হিসেবে কাজ করে। চিকিৎসক জন ভ্যালেন্টাইনের মতে, দৈনন্দিন জীবনের কয়েকটি সাধারণ কিন্তু ক্ষতিকর অভ্যাসের কারণেই মূলত এই অঙ্গটি দ্রুত কার্যক্ষমতা হারাচ্ছে।
ভুল জীবনযাত্রা ও বিপদের উৎস
কিডনি শরীরের সোডিয়াম, পটাশিয়াম ও ফসফেটের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয়। অথচ অতিরিক্ত ব্যথানাশক ওষুধ বা পেইনকিলার খাওয়ার প্রবণতা সরাসরি কিডনি বিকল করে দিচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, আইবুপ্রোফেনের মতো ওষুধ দীর্ঘদিন খেলে শেষ পর্যন্ত ডায়ালিসিসের প্রয়োজন হতে পারে। এছাড়া পর্যাপ্ত জল না খাওয়ার ফলে কিডনিতে পাথর এবং সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। দিনে অন্তত ৬ থেকে ৮ গ্লাস জল না খেলে এই জটিলতা আরও ঘনীভূত হয়।
সতর্কতা ও প্রতিকারের পথ
৪০ বছর বয়সের পর উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার বা ‘হাই প্রোটিন ডায়েট’ কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। এছাড়া অনেক মহিলার মধ্যে দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব চেপে রাখার প্রবণতা দেখা যায়, যা কিডনিতে ব্যাকটিরিয়া ছড়িয়ে স্থায়ী ক্ষত তৈরি করে। রাতে ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া কিডনি ফিল্টার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার একটি বড় লক্ষণ। এই অভ্যাসগুলো ত্যাগ না করলে এবং খাদ্যাভ্যাসে সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ না করলে কিডনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে।
এক ঝলকে
- গবেষণায় পুরুষদের চেয়ে মহিলাদের কিডনি রোগের ঝুঁকি বেশি দেখা গিয়েছে।
- অতিরিক্ত পেইনকিলার সেবন এবং জল কম খাওয়া কিডনি বিকল হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ।
- দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব চেপে রাখা এবং হাই প্রোটিন ডায়েট কিডনির স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে।
- রাতে ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া এবং তলপেটে ব্যথা কিডনি সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণ।