‘অনার কিলিং’: প্রেমিকের সাথে পালিয়েছিলেন তরুণী, ঘরে ডেকে প্রাণ নিল পরিবার!

কর্ণাটকের বেলাগাভি জেলায় তথাকথিত ‘সম্মান রক্ষা’ বা অনার কিলিংয়ের এক নৃশংস ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। নিজের পছন্দের মানুষের সঙ্গে জীবন কাটানোর অপরাধে সত্যভবা নামের এক তরুণীকে তাঁরই পরিবারের সদস্যরা পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। পরিবারের অমতে কৃষ্ণা নামের এক যুবকের সঙ্গে ঘর ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ায় তরুণীর ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন স্বজনরা। দীর্ঘ তিন মাস নিখোঁজ থাকার পর মহারাষ্ট্র সীমান্ত এলাকা থেকে তাঁকে খুঁজে বের করে বাড়িতে ফিরিয়ে আনে পরিবার।
বিপজ্জনক আপস ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড
জানা গেছে, আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার কথা বলে তরুণীকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। কিন্তু বাড়িতে ফেরার পর পরিবারের সদস্যরা তাঁকে কৃষ্ণা নামের ওই যুবকের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য প্রবল চাপ সৃষ্টি করেন। তরুণী নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকলে গত ২১ মার্চ তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, তরুণীর কাকা প্রকাশ ভীমপ্পা, ভাই শানুর সদাশিব এবং ভগ্নিপতি মোরাবাত কাল্লাপ্পা মিলে তাঁকে জোরপূর্বক বিষ পান করিয়ে হত্যা করেন।
সামাজিক ব্যাধি ও বিচার বিভাগীয় তৎপরতা
প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কাজ করেছে গভীর সামাজিক গোঁড়ামি ও জাতিগত বৈষম্য। পরিবারের অমতে ভিন্ন সম্পর্কের পথে হাঁটাকে ‘মর্যাদাহানি’ হিসেবে গণ্য করেই এই চরম পথ বেছে নিয়েছে অভিযুক্তরা। এই ঘটনায় অভিযুক্ত পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ তাঁদের গ্রেফতারের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এক ঝলকে
- কর্ণাটকের বেলাগাভিতে পছন্দের মানুষের সঙ্গে পালানোর অপরাধে তরুণীকে হত্যা।
- নিখোঁজ হওয়ার তিন মাস পর আলোচনার নাম করে তরুণীকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়।
- তরুণীর ভাই, কাকা ও ভগ্নিপতি মিলে তাঁকে জোরপূর্বক বিষ খাইয়ে হত্যা করেছেন।
- অনার কিলিং বা সম্মান রক্ষার নামে এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়েছে বলে প্রাথমিক ধারণা।