এক সেকেন্ডের জন্য থমকে যাবে পৃথিবী? নিমেষেই ধ্বংস হতে পারে ৮৫% মানুষ!

মহাকাশে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১,৬৭০ কিলোমিটার বেগে অবিরাম ঘুরে চলেছে আমাদের পৃথিবী। আপাতদৃষ্টিতে এই গতি আমরা অনুভব করতে না পারলেও, যদি কোনো কারণে পৃথিবী মাত্র এক সেকেন্ডের জন্য থমকে যায়, তবে তার পরিণতি হবে অকল্পনীয়। নিউটনের জড়তার সূত্র অনুযায়ী, পৃথিবী হঠাৎ থেমে গেলেও এর উপরিভাগের বায়ুমণ্ডল, মানুষ, ঘরবাড়ি এবং যানবাহন একই গতিতে পূর্ব দিকে ছিটকে যাবে। এই তীব্র গতির ধাক্কা অনেকটা সুপারসনিক মিসাইলের মতো সবকিছু ধ্বংস করে দেবে।
জলচ্ছ্বাস ও বায়ুমণ্ডলীয় তাণ্ডব
পৃথিবীর ঘূর্ণন থেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সমুদ্রের বিশাল জলরাশি তার গতিবেগ ধরে রাখতে প্রচণ্ড বেগে আছড়ে পড়বে স্থলভাগের ওপর। কয়েক শ মিটার উচ্চতার দানবীয় ঢেউ বা মেগা-সুনামি মুহূর্তের মধ্যে নিউইয়র্ক, মুম্বাই বা টোকিওর মতো উপকূলীয় শহরগুলোকে নিশ্চিহ্ন করে দেবে। একই সময়ে বায়ুমণ্ডলের বাতাস শব্দের চেয়েও দ্রুতগতিতে বইতে শুরু করবে, যা বড় বড় অট্টালিকা ও গাছপালাকে উপড়ে ফেলবে। বাতাসের এই তীব্র ঘর্ষণে বিশ্বজুড়ে দাবানল ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনাও প্রবল।
ভূ-তাত্ত্বিক বিপর্যয় ও তেজস্ক্রিয়তা
হঠাৎ এই গতির পরিবর্তনে পৃথিবীর টেকটোনিক প্লেটগুলোর ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হবে, যার ফলে বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ ভূমিকম্প ও একযোগে অসংখ্য আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত শুরু হবে। এছাড়া পৃথিবীর ঘূর্ণন বন্ধ হলে এর সুরক্ষাকবচ তথা চৌম্বক ক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর ফলে সূর্য থেকে আসা ক্ষতিকর মহাজাগতিক রশ্মি সরাসরি ভূপৃষ্ঠে প্রবেশ করে অবশিষ্ট জীবকূলের অস্তিত্ব সংকটে ফেলবে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এমন পরিস্থিতিতে পৃথিবীর প্রায় ৮৫ শতাংশ মানুষ তাৎক্ষণিকভাবে প্রাণ হারাতে পারে। তবে স্বস্তির বিষয় এই যে, নিকট ভবিষ্যতে পৃথিবীর ঘূর্ণন হঠাৎ এভাবে থেমে যাওয়ার কোনো বৈজ্ঞানিক সম্ভাবনা নেই।
এক ঝলকে
- পৃথিবী হঠাৎ থামলে উপরিভাগের সবকিছু ঘণ্টায় ১,৬৭০ কিমি বেগে পূর্ব দিকে ছিটকে যাবে।
- মহাসমুদ্রে হাজার গুণ শক্তিশালী মেগা-সুনামি তৈরি হয়ে উপকূলীয় শহরগুলোকে ডুবিয়ে দেবে।
- প্রবল ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতের ফলে পৃথিবীর মানচিত্র আমূল বদলে যাবে।
- বায়ুমণ্ডলের প্রচণ্ড গতি ও তেজস্ক্রিয় বিকিরণে অধিকাংশ প্রাণীকূল নিশ্চিহ্ন হওয়ার ঝুঁকি থাকবে।