ইরানের ৪৫০ কেজি ইউরেনিয়াম: ধ্বংস হতে পারে পৃথিবী? কতটি পরমাণু বোমা বানানো সম্ভব?

ইরানের ৪৫০ কেজি ইউরেনিয়াম: ধ্বংস হতে পারে পৃথিবী? কতটি পরমাণু বোমা বানানো সম্ভব?

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ ৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হলেও ইরান ও আমেরিকার মধ্যে ইউরেনিয়াম হস্তান্তর নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মহলে গুঞ্জন ওঠে যে, ইরান তাদের কাছে থাকা ৪৫০ কিলোগ্রাম সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আমেরিকার হাতে তুলে দেবে। তবে তেহরান এই খবর সরাসরি প্রত্যাখ্যান করায় পরমাণু অস্ত্র তৈরির আশঙ্কা ও কূটনৈতিক সংকট আবারও ঘনীভূত হচ্ছে।

পরমাণু সক্ষমতার সমীকরণ
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ৪৫০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সামরিক দিক থেকে অত্যন্ত শক্তিশালী ও বিপজ্জনক। সাধারণত পারমাণবিক বোমা তৈরির জন্য ইউরেনিয়ামকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করার প্রয়োজন হয়। ইরানের কাছে বর্তমানে যে মজুদ রয়েছে, তার সমৃদ্ধির মাত্রা ৬০ শতাংশ। কারিগরিভাবে এই পর্যায়টিকে বোমা তৈরির অত্যন্ত নিকটবর্তী ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যদি এই মজুদকে ৯০ শতাংশ সমৃদ্ধিতে রূপান্তর করা যায়, তবে তা দিয়ে অন্তত ১০ থেকে ১৫টি পারমাণবিক বোমা তৈরি করা সম্ভব।

সংঘাতের নেপথ্য ও প্রভাব
মূলত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করেই আমেরিকা ও ইসরায়েলের সাথে এই সংঘাতের সূত্রপাত। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, ইরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে। এই উত্তেজনার জেরে সাময়িকভাবে ‘স্ট্রেট অফ হোরমুজ’ বন্ধ করে দিয়েছিল ইরান, যা বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা তৈরি করে। বর্তমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের বিষয়টি অমীমাংসিত থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি যেকোনো মুহূর্তে আবারও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

এক ঝলকে

  • ৪৫০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর নিয়ে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
  • বর্তমানে ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামকে ৯০ শতাংশে নিয়ে গেলে ইরান অন্তত ১০-১৫টি পরমাণু বোমা তৈরি করতে সক্ষম হবে।
  • ৪০ দিনের যুদ্ধের পর যুদ্ধবিরতি চললেও ইউরেনিয়াম মজুদ নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা রয়েই গেছে।
  • আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিমাণ ইউরেনিয়াম যেকোনো দেশের সামরিক শক্তির ভারসাম্য বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *