জীবিত মেয়েরই শ্রাদ্ধ সম্পন্ন করলেন বাবা-মা! কারণ জেনে স্তম্ভিত গ্রামবাসী, এই চরম সিদ্ধান্তের সাক্ষী গোটা পরিবার

জীবিত মেয়েরই শ্রাদ্ধ সম্পন্ন করলেন বাবা-মা! কারণ জেনে স্তম্ভিত গ্রামবাসী, এই চরম সিদ্ধান্তের সাক্ষী গোটা পরিবার

পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়ায় এক চাঞ্চল্যকর ও নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। নিজের পছন্দের মানুষকে বিয়ে করে ঘর ছাড়ায় জীবিত মেয়েরই শ্রাদ্ধানুষ্ঠান সম্পন্ন করেছেন তার জন্মদাত্রী মা ও বাবা। চোপড়া ব্লকের সোনাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের জুয়াখুড়ি অগ্নিবাড়ি এলাকায় এই ঘটনাটি জানানি হতেই পুরো রাজ্যজুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, মেয়ের এই ‘অবাধ্যতা’ তারা মেনে নিতে পারেননি, তাই সামাজিক ও ধর্মীয় আচারের মাধ্যমে তার সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন।

পারিবারিক সম্মান বনাম ব্যক্তিগত ইচ্ছা

জানা গেছে, ওই তরুণী পরিবারের অমতে প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে গিয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। পরিবার তাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করলেও তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। মেয়ের এমন আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে পরিবার ও আত্মীয়রা তাকে ত্যাজ্য করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। শনিবার রীতিমতো পুরোহিত ডেকে হিন্দু শাস্ত্রীয় মতে শ্রাদ্ধের সমস্ত আচার পালন করা হয়। বাবা-মায়ের দাবি, পরিবারের সম্মান রক্ষার্থে এবং সমাজকে বার্তা দিতেই তারা এই চরম পথ বেছে নিয়েছেন।

সামাজিক প্রভাব ও মানসিক সংঘাত

এই ঘটনাটি আধুনিক সমাজব্যবস্থা ও গ্রামীণ রক্ষণশীল মানসিকতার মধ্যকার গভীর সংঘাতকে প্রকাশ্যে এনেছে। শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের মাধ্যমে মেয়েকে সামাজিকভাবে ‘মৃত’ ঘোষণা করার এই প্রক্রিয়াটি স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ওপর এক ভয়াবহ সামাজিক ও মানসিক চাপ। চোপড়া এলাকায় এর আগে এমন ঘটনা কখনও ঘটেনি বলে জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা, যা নিয়ে বর্তমানে ওই অঞ্চলে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এক ঝলকে

  • উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ায় প্রেম করে বিয়ে করায় জীবিত মেয়ের শ্রাদ্ধ করলেন বাবা-মা।
  • পরিবারের অবাধ্য হওয়ায় মেয়েকে ‘মৃত’ ঘোষণা করে ধর্মীয় আচার পালনের মাধ্যমে সম্পর্ক ছিন্ন।
  • গ্রামীণ রক্ষণশীল সমাজ বনাম নতুন প্রজন্মের স্বাধীনতার সংঘাত স্পষ্ট হয়েছে এই ঘটনায়।
  • নজিরবিহীন এই সিদ্ধান্তে চোপড়া এলাকাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *