বিমানে নিষিদ্ধ খাবারের তালিকায় নয়া কড়াকড়ি, না জানলে বিমানবন্দরেই হতে পারে জেল-জরিমানা!

আকাশপথে ভ্রমণের প্রস্তুতিতে ব্যাগে খাবার গোছানোর আগে যাত্রীদের আরও সতর্ক হতে হবে। বিমান সংস্থাগুলোর সাম্প্রতিক নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণ ও নিরীহ মনে হওয়া অনেক খাবারও এখন নিষিদ্ধের তালিকায়। এই নিয়মগুলো না জানলে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা তল্লাশিতে কেবল খাবার বাজেয়াপ্ত হওয়াই নয়, বরং বড় অঙ্কের জরিমানা বা আইনি জটিলতায় পড়ার তীব্র ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। মূলত যাত্রী সুরক্ষা ও বিমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
অগ্নিঝুঁকি ও নিরাপত্তার কড়াকড়ি
আশ্চর্যের বিষয় হলেও শুকনো নারকেল বা ‘কোপরা’ এখন বিমানে বহন করা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুকনো নারকেলে তেলের পরিমাণ বেশি থাকায় এটি অত্যন্ত দাহ্য এবং মাঝ আকাশে আগুনের সামান্য স্ফুলিঙ্গ থেকেও বড় দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে। একইভাবে ঘি, মাখন বা মধুর মতো আধা-তরল খাবারগুলো হ্যান্ড ব্যাগে ১০০ মিলিলিটারের বেশি বহন করা যাবে না। তরলজাতীয় খাবারের ক্ষেত্রে লিকেজ হয়ে অন্য যাত্রীদের মালামাল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকায় এই কঠোরতা বজায় রাখা হচ্ছে।
তীব্র গন্ধ ও সহযাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য
খাবারের স্বাদ ও গন্ধের কারণেও বিমান ভ্রমণে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। কাঁঠালের মতো তীব্র গন্ধযুক্ত ফল বা বিশেষ উপায়ে সংরক্ষিত হিমায়িত মাছ-মাংস বহনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বিমান সংস্থার অনুমতি বাধ্যতামূলক। এছাড়া বাড়ির তৈরি আচার বা সস কেবিন লাগেজে নেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এসব খাবারের তীব্র গন্ধ বা তরল ছড়িয়ে পড়ে সহযাত্রীদের অস্বস্তির কারণ হতে পারে। এমনকি শুল্কমুক্ত দোকান থেকে কেনা মদের বোতলও নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে সিল করা প্যাকেটে না থাকলে তা বাজেয়াপ্ত করার অধিকার রাখেন নিরাপত্তা আধিকারিকরা।
এক ঝলকে
- শুকনো নারকেল বা কোপরা দাহ্য হওয়ার কারণে বিমানে বহন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
- কেবিন ব্যাগে আচার, ঘি, মধু বা সস ১০০ মিলিলিটারের বেশি নেওয়া যাবে না।
- কাঁঠাল বা তীব্র গন্ধযুক্ত ফল এবং খোলা মাছ-মাংস বহনে রয়েছে কঠোর বিধিনিষেধ।
- নিয়ম লঙ্ঘন করলে মালামাল বাজেয়াপ্তসহ জরিমানা বা আইনি ব্যবস্থার মুখে পড়তে পারেন যাত্রী।