নেতাজিকে জাতীয় পুত্র ঘোষণা করা সম্ভব নয়, সাফ জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম মহানায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে ‘জাতীয় পুত্র’ বা ‘সন অব দ্য নেশন’ হিসেবে ঘোষণা করার দাবি খারিজ করে দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে যে, এই ধরনের ঘোষণা বিচারবিভাগীয় পর্যালোচনার আওতায় পড়ে না। সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই সংক্রান্ত একটি জনস্বার্থ মামলা বাতিলের পাশাপাশি আবেদনকারীকে কঠোর সতর্কবার্তা প্রদান করেছে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও কঠোর অবস্থান
মামলাটির শুনানির সময় বিচারপতি সূর্যকান্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এই ধরনের পিটিশনগুলো মূলত প্রচার পাওয়ার উদ্দেশ্যে দাখিল করা হয়। আদালতের সময় নষ্ট করার জন্য আবেদনকারীকে ভর্ৎসনা করে বলা হয় যে, এর আগেও এই ধরণের দাবি নিয়ে আসা হয়েছিল এবং আদালত তখনো জানিয়েছিল যে এগুলো প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিষয়। বিচার বিভাগ কোনো ব্যক্তিকে বিশেষ রাষ্ট্রীয় উপাধিতে ভূষিত করার নির্দেশ দিতে পারে না।
আবেদনকারীর মূল দাবিগুলো কী ছিল?
আদালতে পেশ করা ওই জনস্বার্থ মামলায় কয়েকটি নির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করা হয়েছিল:
- নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জাতীয় পুত্র’ হিসেবে ঘোষণা করা।
- ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মি (INA) বা আজাদ হিন্দ ফৌজের অবদানের কারণেই ভারত স্বাধীনতা পেয়েছে—এই মর্মে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান।
- ১৯৪৩ সালের ২১ অক্টোবর আজাদ হিন্দ ফৌজের প্রতিষ্ঠা দিবস এবং ২৩ জানুয়ারি নেতাজির জন্মদিনকে জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণা করা।
আদালতের কড়া হুঁশিয়ারি
আদালত এই আবেদনটিকে ‘ভিত্তিহীন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। প্রধান বিচারপতি আবেদনকারীকে সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে যদি আবারও এই ধরনের তুচ্ছ আবেদন জমা দেওয়া হয়, তবে বড় অঙ্কের জরিমানা ও কঠোর আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে। আদালত এমনকি রেজিস্ট্রি বিভাগকেও নির্দেশ দিয়েছে যাতে এই ধরণের কোনো পিটিশন পরবর্তীতে গ্রহণ না করা হয়। শুনানির শেষে আবেদনকারীকে অবিলম্বে আদালত কক্ষ ত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়, অন্যথায় খরচের দায়ভার চাপানোর হুঁশিয়ারি দেন বিচারপতি।
বিশ্লেষণাত্মক প্রেক্ষাপট
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের সম্মান প্রদর্শন একটি আবেগঘন বিষয় হলেও আইনি কাঠামোতে ‘জাতীয় পিতা’ বা ‘জাতীয় পুত্র’ এর মতো উপাধিগুলোর সাংবিধানিক কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। সুপ্রিম কোর্ট মূলত এই বার্তাই দিতে চেয়েছে যে, ইতিহাস এবং প্রশাসনিক সম্মান প্রদানের বিষয়গুলো সংসদের বা সরকারের এক্তিয়ারভুক্ত, আদালতের নয়।
একঝলকে
- নেতাজিকে ‘জাতীয় পুত্র’ ঘোষণার আবেদন খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট।
- প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের বেঞ্চ একে ‘পাব্লিসিটি স্টান্ট’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
- আজাদ হিন্দ ফৌজের অবদানকে আইনি স্বীকৃতির দাবিও নাকচ করা হয়েছে।
- ভবিষ্যতে এই ধরণের আবেদন করলে জরিমানার হুঁশিয়ারি দিয়েছে আদালত।
- আদালত স্পষ্ট করেছে যে, উপাধি প্রদানের বিষয়টি বিচারবিভাগীয় এখতিয়ারের বাইরে।