হাসপাতালের বেডে বসেই খুনের ছক! ৪৬ বার ছুরির আঘাতে দম্পতিকে শেষ করল আততায়ীরা

উত্তরপ্রদেশের মুরাদাবাদে এক চরম প্রতিহিংসার বলি হলেন রাজা ও ফরাহ দম্পতি। মাত্র ২৪ হাজার টাকার বকেয়া পাওনাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিবাদ শেষ পর্যন্ত এক পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডে রূপ নিয়েছে। সোমবার রাতে নিজস্ব বাসভবনে তিন শিশু সন্তানের সামনেই এই দম্পতিকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ফহিম হাসপাতাল থেকেই এই খুনের পরিকল্পনা সাজিয়েছিল, যা তার ছেলে ও সহযোগীরা বাস্তবায়ন করে।
ভয়াবহ ময়নাতদন্ত ও পুলিশের পদক্ষেপ
ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী, রাজা ও ফরাহর শরীরে মোট ৪৬টি কোপ পাওয়া গিয়েছে। রাজাকে ৪০ বার এবং তার স্ত্রীকে ৬ বার আঘাত করা হয়েছে। জীবন বাঁচাতে রাজা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়েছিলেন বলে তাঁর হাতে ১৬টি ক্ষতচিহ্ন পাওয়া যায়। এই ঘটনার পর পুলিশ তৎপর হয়ে মঙ্গলবার রাতে এনকাউন্টারের মাধ্যমে অন্যতম নামজাদ আসামি আনসকে গ্রেফতার করেছে। মূল ষড়যন্ত্রকারী ফহিমকেও ইতোমধ্যে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বিবাদ ও প্রতিহিংসার কারণ
তদন্তে জানা গেছে, ১৯ এপ্রিল একটি প্লট বিক্রির বকেয়া টাকা নিয়ে বিবাদের সময় রাজার আঘাতে ফহিম আহত হয়। হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় ফহিম এই আঘাতকে সামাজিক অবমাননা হিসেবে গণ্য করে এবং তার ছেলে ও সহযোগীদের মাধ্যমে চরম প্রতিশোধ নেওয়ার নির্দেশ দেয়। একটি সাধারণ আর্থিক লেনদেন ও ব্যক্তিগত জেদের কারণে তিনটি শিশু অনাথ হয়ে পড়ল, যা স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও শোকের ছায়া ফেলেছে।
এক ঝলকে
- বকেয়া ২৪ হাজার টাকাকে কেন্দ্র করে মুরাদাবাদে দম্পতিকে নৃশংসভাবে হত্যা।
- দম্পতিকে মোট ৪৬ বার কোপানো হয়েছে, যার মধ্যে রাজাকে একাই ৪০ বার আঘাত করা হয়।
- হাসপাতাল থেকে ষড়যন্ত্র করার অভিযোগে ফহিম এবং এনকাউন্টারের পর আনস নামের অভিযুক্ত গ্রেফতার।
- তিন সন্তানের সামনেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়, যার মূলে ছিল ব্যক্তিগত জেদ ও অবমাননার প্রতিশোধ।