গরমের স্বস্তি না কি মরণফাঁদ? ভুল পদ্ধতিতে কুলার ব্যবহার ডেকে আনতে পারে অকাল মৃত্যু!

ভ্যাপসা গরমে স্বস্তি পেতে ঘরে ঘরে এয়ার কুলারের ব্যবহার বাড়লেও সামান্য অসাবধানতায় তা হয়ে উঠতে পারে যমদূত। সম্প্রতি তেলঙ্গানার হাজিপুরে কুলার মেরামত করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক ব্যক্তির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। দেশজুড়ে প্রতি বছরই জল ও বিদ্যুতের এই বিপজ্জনক সংমিশ্রণে অসংখ্য প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে, যা সাধারণ মানুষের সুরক্ষা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
কেন বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি
বিশেষজ্ঞদের মতে, কুলার থেকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার প্রধান কারণ হলো ত্রুটিপূর্ণ আর্থিং। বৈদ্যুতিক যন্ত্রে আর্থিং না থাকলে বা তা দুর্বল হলে কারেন্ট লিক হয়ে সরাসরি কুলারের ধাতব বডিতে ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া দীর্ঘদিনের পুরনো তারের আবরণ ছিঁড়ে যাওয়া কিংবা মোটরের ভেতরে জল ঢুকে শর্ট সার্কিট হওয়াও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। বিশেষ করে লোহার বডির কুলার ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
সতর্কতাই একমাত্র সুরক্ষা
দুর্ঘটনা এড়াতে কুলার রিফিল করার আগে অবশ্যই প্লাগ খুলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা প্রয়োজন। এছাড়া কুলার ব্যবহারের সময় সামান্য বৈদ্যুতিক শক বা ঝিনঝিনানি অনুভূত হলে তা অবহেলা না করে অবিলম্বে দক্ষ মেকানিক দিয়ে পরীক্ষা করানো উচিত। গ্রাউন্ডেড সকেট ব্যবহার এবং নিয়মিত তারের গুণমান যাচাই করলে এই ধরনের অনভিপ্রেত মৃত্যু এড়ানো সম্ভব।
এক ঝলকে
- তেলঙ্গানায় কুলার মেরামত করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু।
- ত্রুটিপূর্ণ আর্থিং ও পুরনো তারের ছিঁড়ে যাওয়া কুলারে কারেন্ট ছড়িয়ে পড়ার মূল কারণ।
- জল ভরার সময় বা ভেজা হাতে বৈদ্যুতিক যন্ত্র স্পর্শ করা প্রাণঘাতী হতে পারে।
- সুরক্ষার স্বার্থে কুলারের মোটর ও তার নিয়মিত পরীক্ষা করা জরুরি।