রক্ষা খাতে আত্মনির্ভরতার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে ভারত, জেন টেকনোলজিসকে আধুনিক তোপ তৈরির ছাড়পত্র

রক্ষা খাতে আত্মনির্ভরতার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে ভারত, জেন টেকনোলজিসকে আধুনিক তোপ তৈরির ছাড়পত্র

প্রতিরক্ষা উৎপাদনে বিদেশের ওপর নির্ভরতা কমাতে ভারত সরকার এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। ১৯৫৯ সালের ‘আর্মস অ্যাক্ট’ বা অস্ত্র আইনের অধীনে ভারতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সংস্থা ‘জেন টেকনোলজিস’-কে বিভিন্ন আধুনিক তোপ বা ক্যানন তৈরির লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে। এই পদক্ষেপটি মূলত দেশের নিজস্ব প্রতিরক্ষা ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি আমদানিকৃত সমরাস্ত্রের বিকল্প হিসেবে ভারতের সক্ষমতা বৃদ্ধির এক অনন্য প্রয়াস।

প্রতিরক্ষায় সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়ন

লাইসেন্স অনুযায়ী, জেন টেকনোলজিস এখন থেকে ১২.৭ মিমি, ২৩ মিমি, ৩০ মিমি এবং ৪০ মিমি সক্ষমতার ‘র‍্যাপিড-ফায়ার’ ক্যানন সিস্টেম উৎপাদন করতে পারবে। এই তোপগুলো মূলত আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় সক্ষম। এগুলিকে রাডার নেটওয়ার্ক এবং ইলেক্ট্রো-অপ্টিক্যাল সেন্সরের মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাথে যুক্ত করা যাবে, যা যুদ্ধক্ষেত্রে নির্ভুল লক্ষ্যভেদে সহায়তা করবে।

আকাশপথের নিরাপত্তায় নতুন দিগন্ত

বর্তমান সময়ে ড্রোন এবং সুইসাইড ড্রোনের হামলা বিশ্বজুড়ে বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই নতুন প্রযুক্তির তোপগুলো মূলত নিচু উচ্চতায় উড়ন্ত বিমান, ড্রোন এবং ড্রোনের ঝাঁক (Swarm Drones) ধ্বংস করতে সক্ষম। আকাশপথের নিরাপত্তায় এটি একটি সাশ্রয়ী সমাধান হিসেবে কাজ করবে, কারণ ড্রোনের মতো ছোট লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসে ব্যয়বহুল মিসাইল বা ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়ে এই ধরনের র‍্যাপিড-ফায়ার তোপ অনেক বেশি কার্যকর এবং লাভজনক।

কৌশলগত ও অর্থনৈতিক প্রভাব

ভারত সরকারের ‘স্বদেশি নকশা, উন্নয়ন ও নির্মাণ’ (IDDM) কাঠামোর অধীনে এই উদ্যোগ ভারতের সীমান্ত এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর সুরক্ষাকে আরও জোরদার করবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে অভ্যন্তরীণ উদ্ভাবন যেমন বৃদ্ধি পাবে, তেমনি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি দেশীয় সরবরাহ ব্যবস্থা বা সাপ্লাই চেইন মজবুত হবে। দীর্ঘমেয়াদে এটি ভারতকে প্রতিরক্ষা রপ্তানির ক্ষেত্রেও বিশ্ববাজারে একটি শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে।

এক ঝলকে

  • ভারত সরকার জেন টেকনোলজিসকে ১২.৭ মিমি থেকে ৪০ মিমি পর্যন্ত আধুনিক তোপ তৈরির লাইসেন্স দিয়েছে।
  • এই তোপগুলো মূলত ড্রোন হামলা ও আকাশপথের নিচু উচ্চতার হুমকি মোকাবিলায় প্রতিরক্ষা কবচ হিসেবে কাজ করবে।
  • রাডার ও সেন্সর প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে এই অস্ত্রগুলো অত্যন্ত নির্ভুল ও সাশ্রয়ী সমাধান দেবে।
  • এই পদক্ষেপ ভারতের প্রতিরক্ষা আমদানির নির্ভরতা কমিয়ে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ অভিযানকে ত্বরান্বিত করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *