কানপুরে বাবার হাতে দুই যমজ কন্যার মর্মান্তিক মৃত্যু এবং এক মায়ের বুকফাটা আর্তনাদ!

কানপুরে বাবার হাতে দুই যমজ কন্যার মর্মান্তিক মৃত্যু এবং এক মায়ের বুকফাটা আর্তনাদ!

উত্তরপ্রদেশের কানপুরে এক সাবেক মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভের হাতে তার ১১ বছর বয়সী দুই যমজ কন্যাসন্তানের নির্মম হত্যাকাণ্ড পুরো এলাকাকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ৪৮ বছর বয়সী শশী রঞ্জন মিশ্র রাতে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে নিজের দুই মেয়েকে শ্বাসরোধ করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন। ঘটনার সময় পাশের ঘরে ৬ বছরের শিশুপুত্রকে নিয়ে ঘুমিয়ে থাকায় মা রেশমা কিছুই টের পাননি। ভোরে পুলিশের উপস্থিতিতে সন্তানদের রক্তাক্ত নিথর দেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন ওই অসহায় মা।

পারিবারিক অশান্তি ও মানসিক অবসাদ

তদন্তে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই ওই পরিবারে অশান্তি চলছিল। শশী রঞ্জন তার স্ত্রী রেশমাকে সন্দেহ করতেন এবং পুরো বাড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়ে নজরদারি চালাতেন। বেকারত্ব, চরম আর্থিক অনটন এবং মায়ের মৃত্যুর পর থেকেই শশী গভীর মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রায়ই মদ্যপান করতেন এবং ঘুমের ওষুধ সেবন করতেন। এর আগে একাধিকবার তিনি সন্তানদের নিয়ে আত্মঘাতী হওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন বলেও তার স্ত্রী পুলিশকে জানিয়েছেন।

পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ও কারণ

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ঘাতক বাবা তার অপরাধ স্বীকার করেছেন। হত্যাকাণ্ডের এক দিন আগেই তিনি বাজার থেকে নতুন ছুরি কিনে আনেন, যা থেকে বোঝা যায় এটি একটি পরিকল্পিত ঘটনা। তার দাবি, বেকারত্বের কারণে মেয়েদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন ছিলেন এবং সেই দুশ্চিন্তা থেকেই এই চরম পথ বেছে নিয়েছেন। সিসিটিভি ফুটেজে রাত আড়াইটা পর্যন্ত সন্তানদের জীবিত দেখা গেলেও, রাত সাড়ে ৪টার দিকে শশী নিজেই পুলিশকে ফোন করে খুনের কথা জানান।

এক ঝলকে

  • কানপুরের কিদওয়াই নগরে ১১ বছর বয়সী দুই যমজ বোনকে তাদের বাবা নির্মমভাবে হত্যা করেছেন।
  • ঘাতক বাবা শশী রঞ্জন মিশ্র দীর্ঘদিন ধরে বেকারত্ব, আর্থিক অনটন ও মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন।
  • সন্তানদের খাবারের সাথে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে অচেতন করার পর গলা কেটে হত্যা করা হয়।
  • ঘটনার পর অভিযুক্ত নিজেই পুলিশকে খবর দেন এবং বর্তমানে তিনি পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *