আমেরিকায় সাবেক সেনার নৃশংসতা, প্রাণ গেল নিজের সাত সন্তানসহ আট শিশুর!

আমেরিকার লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের শ্রিভপোর্ট শহরে এক ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনায় স্তব্ধ হয়ে পড়েছে পুরো দেশ। রবিবার ভোরে সংঘটিত এই নৃশংসতায় ১ থেকে ১২ বছর বয়সী মোট আটজন শিশু প্রাণ হারিয়েছে। ঘাতক ব্যক্তি আর কেউ নন, খোদ শিশুদের বাবা এবং সাবেক মার্কিন সেনা সদস্য শমার এলকিন্স। গত আড়াই বছরের মধ্যে এটি আমেরিকার অন্যতম ভয়াবহ গণ-শুটিংয়ের ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
পারিবারিক কলহ ও হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, ৩১ বছর বয়সী এলকিন্স প্রথমে শ্রিভপোর্টের একটি বাড়িতে এক নারীকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। এরপর তিনি পার্শ্ববর্তী অন্য একটি বাড়িতে গিয়ে সেখানে থাকা শিশুদের ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করেন। নিহতদের মধ্যে সাতজনই ঘাতকের নিজের সন্তান। পুলিশি অভিযানে পালানোর চেষ্টা করলে একটি শিশুর মরদেহ বাড়ির দোতলায় পাওয়া যায়। মূলত চরম পারিবারিক বিবাদের জের ধরেই এলকিন্স এই পৈশাচিক পথ বেছে নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অভিযুক্তের মৃত্যু ও তদন্তের অগ্রগতি
হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর এলকিন্স একটি গাড়ি ছিনতাই করে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে পুলিশ ধাওয়া করলে দুই পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময় হয় এবং পুলিশের গুলিতে এলকিন্স নিহত হন। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এর আগে ২০১৯ সালে এলকিন্স একবার অস্ত্র মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন, তবে সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতার কোনো অভিযোগ ছিল না। তদন্ত কর্মকর্তারা এই ঘটনাকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম নৃশংস দৃশ্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
এই ঘটনার ফলে আমেরিকায় দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত গান-ভায়োলেন্স বা বন্দুক হামলা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ২০২৪ সালের শুরুতে শিকাগোতে ঘটা একই ধরনের হত্যাকাণ্ডের পর এটিই সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি। এই ঘটনা কেবল লুইজিয়ানা নয়, বরং পুরো বিশ্বের বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে।
এক ঝলকে
- ঘাতক সাবেক মার্কিন সেনা সদস্য শমার এলকিন্স নিজের ৭ সন্তানসহ মোট ৮ শিশুকে গুলি করে হত্যা করেছেন।
- লুইজিয়ানার শ্রিভপোর্ট শহরে রবিবার ভোরে দুটি ভিন্ন বাড়িতে এই নারকীয় তাণ্ডব চালানো হয়।
- পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে ঘাতক এলকিন্স নিহত হয়েছেন এবং আহত দুই নারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
- পারিবারিক কলহকে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্থানীয় পুলিশ।