চটির গুণগান করাই এখন চাকরি পাওয়ার একমাত্র যোগ্যতা! শুভেন্দুর তোপে তৃণমূল নেত্রী

আইপ্যাক কর্মীদের কর্মসংস্থান নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক দানা বেঁধেছে। নির্বাচনী সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, আইপ্যাক সংস্থার কর্মীদের কাজ হারাতে হবে না এবং প্রয়োজন হলে সরকারই তাঁদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে কড়া সমালোচনা করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
যোগ্যতা বনাম তোষামোদের অভিযোগ
শুভেন্দু অধিকারী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করে সরাসরি তৃণমূল সুপ্রিমোকে নিশানা করেছেন। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণা রাজ্যের হাজার হাজার যোগ্য কর্মপ্রার্থীর প্রতি চরম অবমাননা। শুভেন্দুর মতে, এই মন্তব্যের মাধ্যমে এটাই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে বর্তমানে চাকরির ক্ষেত্রে মেধা বা শিক্ষাগত যোগ্যতা নয়, বরং নির্দিষ্ট মহলের তোষামোদ বা ‘চটির গুণগান’ করাই প্রধান মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রভাব
রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যে দীর্ঘদিনের নিয়োগ দুর্নীতি এবং বকেয়া চাকরির দাবিতে আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীদের আবেগকে উসকে দিতেই শুভেন্দু এই কৌশল নিয়েছেন। বিরোধীদের দাবি, সরকারি সংস্থায় নিয়োগের নির্দিষ্ট সাংবিধানিক পদ্ধতি থাকলেও একটি বেসরকারি সংস্থার কর্মীদের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর এমন সরাসরি আশ্বাস রাজ্যের নিরপেক্ষ কর্মসংস্থান নীতিকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
এই বিতর্কের ফলে একদিকে যেমন আইপ্যাকের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছে, অন্যদিকে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে বাক্যযুদ্ধ আরও জোরালো রূপ নিয়েছে। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, এই ধরণের নীতি রাজ্যের শিক্ষিত যুবসমাজের মধ্যে হতাশা তৈরি করবে এবং সরকারি দপ্তরে নিয়োগের স্বচ্ছতাকে কালিমালিপ্ত করবে।
এক ঝলকে
- আইপ্যাক কর্মীদের চাকরি নিয়ে মমতার আশ্বাসের বিরুদ্ধে সরব শুভেন্দু অধিকারী।
- যোগ্যতা নয় বরং তোষামোদই চাকরির মাপকাঠি বলে দাবি বিরোধী দলনেতার।
- মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যকে রাজ্যের যোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের জন্য অবমাননাকর বলে অভিহিত।
- সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু।