আকাশে চার ঘণ্টার আতঙ্ক, হায়দ্রাবাদ থেকে হুুবলিগামী বিমানে যান্ত্রিক বিভ্রাট

হায়দ্রাবাদ থেকে হুুবলি যাওয়ার পথে একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের বিমানে ভয়াবহ যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। রবিবার বিকেলের এই ঘটনায় প্রায় চার ঘণ্টা ধরে মাঝআকাশে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ছিলেন যাত্রীরা। দীর্ঘ সময় ধরে মেঘের রাজ্যে বিমানের চক্কর কাটার পর শেষ পর্যন্ত বেঙ্গালুরুতে সেটির নিরাপদ অবতরণ করানো সম্ভব হয়।
মাঝআকাশে যান্ত্রিক গোলযোগ ও রুদ্ধশ্বাস কয়েক ঘণ্টা
বিকেল ৩টের সময় হায়দ্রাবাদের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমানটি হুুবলির উদ্দেশে রওনা দেয়। বিকেল সাড়ে ৪টের সময় গন্তব্যে পৌঁছানোর কথা থাকলেও অবতরণের ঠিক আগে ধরা পড়ে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত ত্রুটি। নিরাপত্তা বিবেচনায় পাইলট ল্যান্ডিং স্থগিত রেখে নিরাপদ স্থানের খোঁজে বিমানটি আকাশে ওড়াতে থাকেন। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে মুন্ডগোড়, দাভাঙ্গেরে এবং শিবমোগার মতো এলাকাগুলোর ওপর দিয়ে চক্কর কাটতে থাকে বিমানটি। বিমানের ভেতর তখন কান্নার রোল আর প্রার্থনার শব্দে এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
নিরাপদ অবতরণ ও বর্তমান পরিস্থিতি
অবশেষে বিমানটিকে বেঙ্গালুরুর কেম্পেগৌড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা নাগাদ বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়। এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দীর্ঘ উৎকণ্ঠা শেষে সকল যাত্রী ও ক্রু সদস্য সুস্থ রয়েছেন। বর্তমানে এই যান্ত্রিক ত্রুটির নেপথ্যে থাকা সুনির্দিষ্ট কারণ খতিয়ে দেখছে কর্তৃপক্ষ।
কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় স্বজনদের ক্ষোভ
বিমানের নিরাপদ অবতরণে যাত্রীরা স্বস্তি পেলেও এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ফেটে পড়েছেন তাদের পরিবার ও স্বজনরা। অভিযোগ উঠেছে, যান্ত্রিক গোলযোগ সম্পর্কে যাত্রীদের পরিবারের সদস্যদের কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। দীর্ঘ সময় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় পরিবারের মানুষদের মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়। ক্ষুব্ধ স্বজনরা বিমানের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরাপত্তা মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
একঝলকে
- যাত্রা: দুপুর ৩টে, হায়দ্রাবাদ থেকে হুুবলি।
- সমস্যা: ল্যান্ডিংয়ের ঠিক আগে ধরা পড়ে যান্ত্রিক ত্রুটি।
- আতঙ্ক: মাঝআকাশে দীর্ঘ ৪ ঘণ্টা চক্কর কাটে বিমান।
- অবতরণ: সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে বেঙ্গালুরুতে জরুরি অবতরণ।
- পরিণতি: সকল যাত্রী ও ক্রু সুরক্ষিত, তদন্ত শুরু।