কমিশন বৃদ্ধি না হলে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন বয়কটের ডাক রেশন ডিলারদের

কমিশন বৃদ্ধি না হলে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন বয়কটের ডাক রেশন ডিলারদের

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর আগে বড়সড় চাপে রাজ্য প্রশাসন। দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া দাবিদাওয়া পূরণ না হওয়ায় এবার কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিল রেশন ডিলারদের সংগঠন ‘ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন’। চাল, গম ও চিনির ওপর কমিশন বৃদ্ধি সহ একাধিক দাবিতে সরব হয়েছেন তাঁরা। দাবি মানা না হলে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ভোট বয়কটের ডাক দিয়েছে এই সংগঠন।

সোমবার দুপুর ১টায় কলকাতা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। রেশন ডিলারদের অস্তিত্ব রক্ষা এবং জীবিকার স্বার্থেই এই কঠোর অবস্থান বলে জানিয়েছেন সংগঠনের নেতৃত্ব।

কেন ক্ষুব্ধ রেশন ডিলাররা

রেশন ডিলারদের মূল ক্ষোভের কারণ বর্তমানের নামমাত্র কমিশন। সংগঠনের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসুর মতে, দীর্ঘ সময় ধরে আবেদন জানানো সত্ত্বেও সরকার তাঁদের দাবিদাওয়া নিয়ে কর্ণপাত করেনি। ডিলারদের প্রধান দাবিগুলো হলো:

  • চাল, গম ও চিনির ক্ষেত্রে ডিলার প্রতি বর্তমানের ৯৫ টাকা কমিশন বাড়িয়ে ন্যূনতম ২৫০ টাকা করতে হবে।
  • NFSA (ন্যাশনাল ফুড সিকিউরিটি অ্যাক্ট) আইন অনুযায়ী e-PoS এবং ইন্টিগ্রেটেড ওয়েইং স্কেলের মাধ্যমে রেশন বণ্টনের জন্য ডিলার প্রতি অতিরিক্ত ২১ টাকা কমিশন প্রদান করতে হবে।
  • ডিজিটাল ফুড কুপন, গ্রেইন এটিএম, সিবিডিসি (CBDC) এবং ডিবিটি (DBT)-র মতো ব্যবস্থা চালুর বিরোধিতা করছেন তাঁরা, কারণ ডিলারদের মতে এই পদ্ধতিগুলো তাঁদের জীবিকাকে সরাসরি সংকটের মুখে ফেলছে।

ভোট বয়কটের হুঁশিয়ারি ও রাজনৈতিক প্রভাব

নির্বাচনের ঠিক আগে রেশন ডিলারদের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনের এই ঘোষণা রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশ্বম্ভর বসু স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই দাবিগুলি করে আসছি, কিন্তু মানা হচ্ছে না। তাই এবার বাধ্য হয়ে ভোট বয়কটের কথা ভাবছি।’ রেশন ব্যবস্থার সঙ্গে তৃণমূল স্তরের বহু মানুষ যুক্ত থাকায়, ডিলারদের এই আন্দোলন ভোটারদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

রান্নার গ্যাসের সংকট ও কেরোসিন বরাদ্দ

রেশন ডিলারদের এই আন্দোলনের সমান্তরালে রাজ্যে রান্নার গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রীকে চিঠি পাঠিয়েছিল অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলারস ফেডারেশন। সেই চিঠির প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গের জন্য অতিরিক্ত ৪,১৬৪ কিলোলিটার কেরোসিন তেল বরাদ্দ করেছে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ পুরী সংসদে জানিয়েছেন, এই তেল রেশন দোকান বা পিডিএস আউটলেটের মাধ্যমেই সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো হবে, যাতে গ্যাস সিলিন্ডারের উচ্চমূল্য ও সংকটের সময়েও মানুষ সাধারণ খাদ্যসামগ্রী রান্না করার সুযোগ পান।

একঝলকে

  • সংগঠন: ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন।
  • মূল দাবি: চাল-গমে কমিশন ৯৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫০ টাকা করা।
  • হুঁশিয়ারি: দাবি পূরণ না হলে ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচন বয়কট।
  • অন্যান্য দাবি: ই-পস (e-PoS) মেশিনে রেশন বণ্টনের জন্য অতিরিক্ত ২১ টাকা কমিশন।
  • বিরোধিতা: গ্রেইন এটিএম ও ডিজিটাল ফুড কুপন চালুর বিরোধিতা।
  • কেন্দ্রীয় পদক্ষেপ: রান্নার গ্যাস সংকটের জেরে রাজ্যে অতিরিক্ত ৪,১৬৪ কিলোলিটার কেরোসিন বরাদ্দ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *