বালিশে মাথা রাখলেই চিন্তার পাহাড়? জেনে নিন রাতে মন কেন ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে!

বালিশে মাথা রাখলেই চিন্তার পাহাড়? জেনে নিন রাতে মন কেন ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে!

দিনের কর্মব্যস্ততায় আমাদের মস্তিষ্ক বাহ্যিক শব্দ ও নানা কাজে মগ্ন থাকে। কিন্তু রাত নামলেই চারপাশ শান্ত হয়ে আসে এবং মনের ভেতর দানা বাঁধে হাজারো দুশ্চিন্তা। গবেষকদের মতে, দিনের বেলা মস্তিষ্কের মনোযোগ বিক্ষিপ্ত থাকলেও রাতে একাকীত্ব ও নিস্তব্ধতার কারণে অবদমিত আবেগগুলো মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। বিশেষ করে অতীত স্মৃতি বা ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ এই সময়ে প্রকট আকার ধারণ করে, যার পেছনে রয়েছে মস্তিষ্কের বিশেষ কিছু জৈবিক ও রাসায়নিক পরিবর্তন।

মানসিক চাপের নেপথ্যে বিজ্ঞান

চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে রাতের বেলা মানুষের মেজাজ পরিবর্তনের পেছনে হরমোনের প্রভাব অনস্বীকার্য। দিনের বেলা আমাদের সতেজ রাখতে সাহায্য করে ‘কর্টিসল’ হরমোন, যার মাত্রা রাতে কমে যায়। এর ফলে মস্তিষ্ক আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ে এবং ছোট সমস্যাকেও অনেক বড় মনে হয়। এছাড়া মস্তিষ্কের ‘অ্যামিগডালা’ নামক অংশটি রাতে বেশি সক্রিয় থাকায় পুরনো দুঃখ বা ভয় মানুষকে বেশি বিচলিত করে। আধুনিক যুগে ঘুমানোর আগে মোবাইল ফোনের নীল আলো এই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা ঘুমের হরমোন ‘মেলাটোনিন’ উৎপাদনে বাধা দেয়।

প্রতিকারের উপায় ও সচেতনতা

এই মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পেতে বিশেষজ্ঞরা ‘ডিজিটাল ডিটক্স’ বা ঘুমানোর অন্তত আধা ঘণ্টা আগে সব ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস দূরে রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন। ডায়েরিতে নিজের চিন্তাগুলো লিখে রাখা বা ‘ওয়ারি লিস্ট’ তৈরি করলে মস্তিষ্ক চাপমুক্ত বোধ করে। এছাড়া নিয়মিত গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম এবং ইতিবাচক চিন্তা করার অভ্যাস অনিদ্রা ও রাতের উদ্বেগ কমাতে সহায়ক হতে পারে। সঠিক সময়ে ব্যবস্থা না নিলে এই রাতের দুশ্চিন্তা দীর্ঘমেয়াদী মানসিক অবসাদ বা ইনসোমনিয়ার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এক ঝলকে

  • রাতে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা কমে যাওয়ায় মানুষ বেশি আবেগপ্রবণ ও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়ে।
  • নিস্তব্ধ পরিবেশে মস্তিষ্কের অ্যামিগডালা অংশটি সক্রিয় হয়ে নেতিবাচক চিন্তা উসকে দেয়।
  • স্মার্টফোনের ব্লু-লাইট বা নীল আলো মেলাটোনিন হরমোন কমিয়ে ঘুমের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বিঘ্নিত করে।
  • ঘুমানোর আগে ডায়েরি লেখা বা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *