নারী সংরক্ষণ নয় বরং মোদীকে সুরক্ষা দেওয়াই সরকারের মূল লক্ষ্য দাবি জয়রাম রমেশের

নারী সংরক্ষণের আড়ালে মোদী সরকার যে সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া চালু করতে চেয়েছিল, তার ব্যর্থতাকে সংবিধান ও গণতন্ত্রের জয় হিসেবে দেখছে কংগ্রেস। সোমবার কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ বিজেপি সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, সরকারের এই তথাকথিত ‘বুলডোজার রাজনীতি’ আসলে পর্যুদস্ত হয়েছে। কংগ্রেসের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারের আসল এজেন্ডা নারী ক্ষমতায়ন নয়, বরং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সুরক্ষা প্রদান করা।
বিজেপির কৌশলী পদক্ষেপ ও কংগ্রেসের পাল্টা আঘাত
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ সর্বসম্মতিক্রমে পাস হলেও ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে তা কার্যকর করার আবেদন কর্ণপাত করেনি সরকার। দীর্ঘ ৩০ মাস নীরব থাকার পর গত ১৬ এপ্রিল হঠাৎ করে এই আইনটি বিজ্ঞাপিত করা হয়। কংগ্রেসের মতে, এটি সরকারের সদিচ্ছার অভাব এবং স্রেফ প্রচারের রাজনীতি। জয়রাম রমেশের অভিযোগ, সরকার নারী সংরক্ষণের দোহাই দিয়ে আসলে তড়িঘড়ি করে সীমানা পুনর্নির্ধারণের মতো জটিল রাজনৈতিক এজেন্ডা চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল।
পরিসিমন বিতর্ক ও লোকসভায় ভোটাভুটি
সম্প্রতি লোকসভায় ‘সংবিধান (১৩১তম) সংশোধন বিল ২০২৬’ পেশ করা হলে তা প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হয়। বিলটির পক্ষে ২৯৮ এবং বিপক্ষে ২৩০টি ভোট পড়ে। সংবিধান সংশোধনীর জন্য যে বিশেষ সমর্থনের প্রয়োজন ছিল, তা না পাওয়ায় বিলটি আটকে যায়। এর পাশাপাশি ‘পরিসিমন বিল ২০২৬’ এবং ‘কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন (সংশোধন) বিল ২০২৬’ নিয়ে আসার পরিকল্পনা থাকলেও সরকার তা এগিয়ে নিতে পারেনি।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও কংগ্রেসের দাবি
কংগ্রেস স্পষ্ট জানিয়েছে যে, ভারতীয় মহিলারা বিজেপির এই রাজনৈতিক প্রচারের ফাঁদে পা দেবেন না। জয়রাম রমেশের মতে, সরকার আসলে জাতিভিত্তিক জনগণনার বিষয়টিকে ধামাচাপা দিতে চাইছে। কংগ্রেসের প্রধান দাবিগুলো হলো:
- লোকসভার বর্তমান আসন সংখ্যার ভিত্তিতেই অবিলম্বে নারী সংরক্ষণ কার্যকর করতে হবে।
- প্রয়োজনে মে মাসের শেষে বা আসন্ন বর্ষাকালীন অধিবেশনে সংশোধনী বিল আনতে হবে।
- ২০২৯ সালের নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা না করে দ্রুত এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
একঝলকে
- নারী সংরক্ষণের আড়ালে সীমানা পুনর্নির্ধারণের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় একে গণতন্ত্রের জয় বলছে কংগ্রেস।
- লোকসভায় প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ ভোট না পাওয়ায় পাস হয়নি নারী সংরক্ষণ সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধন বিল।
- বিরোধীদের দাবি, সরকারের আসল উদ্দেশ্য রাজনৈতিক এজেন্ডা পূরণ করা, নারী ক্ষমতায়ন নয়।
- বর্তমান লোকসভা আসন বজায় রেখেই ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের দাবি তুলেছে কংগ্রেস।
- বিজেপি সরকার গত ৩০ মাস এই বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে হঠাৎ সক্রিয় হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জয়রাম রমেশ।