ডিজিটাল সেতুবন্ধন: ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০ বিলিয়ন ডলার বাণিজ্যের লক্ষ্যে ভারত-কোরিয়া

ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যকার অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে যাচ্ছে। সোমবার নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিউংয়ের মধ্যে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমানে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ২৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিগুণ করে ৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন দুই রাষ্ট্রপ্রধান।
প্রযুক্তি ও বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত
এই লক্ষ্য অর্জনে উভয় দেশ বিদ্যমান মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) আধুনিকায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), সেমিকন্ডাক্টর এবং তথ্য প্রযুক্তিতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘ইন্ডিয়া-কোরিয়া ডিজিটাল ব্রিজ’ বা ডিজিটাল সেতু প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে চিপ নির্মাণ থেকে শুরু করে জাহাজ তৈরি এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি খাতে অংশীদারিত্ব বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স ও এসকে হাইনিক্সের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞতা ভারতের ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল বাজারকে সমৃদ্ধ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কৌশলগত নিরাপত্তা ও অংশীদারিত্ব
প্রেসিডেন্ট লি জে মিউংয়ের তিন দিনের এই সফরে জাহাজ নির্মাণ, ইস্পাত সরবরাহ চেইন এবং জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ১৫টিরও বেশি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়া যৌথভাবে ২০২৮-২৯ সালকে ‘বন্ধুত্ব বর্ষ’ হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উভয় দেশ একটি স্থায়ী সংলাপ ব্যবস্থা চালু করতে সম্মত হয়েছে।
এক ঝলকে
- ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের লক্ষ্যমাত্রা ৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা।
- প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের জন্য ‘ইন্ডিয়া-কোরিয়া ডিজিটাল ব্রিজ’ স্থাপনের ঘোষণা।
- জাহাজ নির্মাণ, এআই এবং সেমিকন্ডাক্টরসহ বিভিন্ন খাতে ১৫টির বেশি চুক্তি স্বাক্ষর।
- ২০২৮-২৯ সালকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ‘বন্ধুত্ব বর্ষ’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত।