“মা, আমি পাস করেছি!”—ফোনে মেয়ের কান্নায় ভিজল নেটপাড়া, এক অভাবী ছাত্রীর সাফল্যের গল্প

দারিদ্র্যের শিকল ভেঙে বেরিয়ে আসার প্রধান অস্ত্র হলো শিক্ষা। সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশায় বাবা-মায়ের হাড়ভাঙা পরিশ্রমের সার্থকতা তখনই আসে, যখন সন্তান তাদের স্বপ্ন পূরণ করে। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এক আবেগঘন ভিডিওতে তেমন এক দৃশ্যের সাক্ষী হয়েছে পুরো দেশ। দিল্লির এক স্কুলছাত্রী সাক্ষীর দশম শ্রেণির পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর তার আনন্দাশ্রু এখন ইন্টারনেটে ভাইরাল।
শিক্ষক যখন আশার আলো
সাক্ষীর এই অসাধারণ সাফল্যের পেছনে রয়েছেন দিল্লি পুলিশের হেড কনস্টেবল তান সিং। উর্দিতে আইন রক্ষার পাশাপাশি তিনি ‘তান সিং কি পাঠশালা’ নামে একটি বিনা মূল্যের শিক্ষা কেন্দ্র পরিচালনা করেন, যেখানে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পড়ানো হয়। সাক্ষী এই পাঠশালারই শিক্ষার্থী। ভিডিওতে দেখা যায়, তান সিং নিজেই প্রথম সাক্ষীর মাকে ফোন করে তার মেয়ের পাসের খবর জানান। এরপর ফোনটি সাক্ষীর হাতে দিলে সে কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং ফোনের ওপাশে থাকা মাকে বারবার বলতে থাকে, “মা, আমি পাস করেছি!”
কৃতজ্ঞতা ও অনুপ্রেরণার এক বিরল চিত্র
মায়ের সঙ্গে কথা বলা শেষে আবেগাপ্লুত সাক্ষী দৌড়ে গিয়ে তার প্রিয় শিক্ষক তান সিংকে জড়িয়ে ধরে। এই দৃশ্যটি কেবল এক ছাত্রীর কৃতজ্ঞতাই নয়, বরং প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে এক দীর্ঘ লড়াইয়ের জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। তান সিং তার ইনস্টাগ্রামে ভিডিওটি শেয়ার করার পর থেকেই নেটিজেনরা তাকে প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন। অনেকেই বলছেন, পুলিশ যে শুধু লাঠি হাতে শাসন নয়, মমতার হাত বাড়িয়ে সমাজ সংস্কারও করতে পারেন, তান সিং তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
সাক্ষীর এই ফলাফল শুধু তার একার জয় নয়, বরং এটি তার পরিবারের জন্য নতুন আশার আলো। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, সঠিক দিকনির্দেশনা এবং কঠোর পরিশ্রম থাকলে দারিদ্র্য কখনো মেধার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।
এক ঝলকে
সাক্ষীর এই জয় এবং শিক্ষকের প্রতি তার শ্রদ্ধা নেটদুনিয়ায় অসংখ্য মানুষকে অনুপ্রাণিত করছে।
দিল্লি পুলিশের হেড কনস্টেবল তান সিং পরিচালিত অবৈতনিক কোচিংয়ের ছাত্রী সাক্ষী দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে।
পরীক্ষায় পাসের খবর মাকে জানানোর সময় ছাত্রীর আবেগঘন কান্নার ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
পড়ালেখার সুযোগহীন দরিদ্র শিশুদের শিক্ষার আলো দেখাতে তান সিং দীর্ঘ দিন ধরে নিজের পাঠশালাটি চালিয়ে আসছেন।