দাপুটে না দাগি? প্রথম দফাতেই ২৩% প্রার্থীর পিঠে মামলার বোঝা, শীর্ষে বিজেপি!

দাপুটে না দাগি? প্রথম দফাতেই ২৩% প্রার্থীর পিঠে মামলার বোঝা, শীর্ষে বিজেপি!

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণের আগে প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে এক চাঞ্চল্যকর চিত্র তুলে ধরেছে অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস (এডিআর) ও ওয়েস্ট বেঙ্গল ইলেকশন ওয়াচ। ২৩ এপ্রিলের এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রার্থীদের মধ্যে বড় একটি অংশের বিরুদ্ধে যেমন গুরুতর ফৌজদারি মামলা রয়েছে, তেমনই পাল্লা দিয়ে বেড়েছে কোটিপতি প্রার্থীদের সংখ্যা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উন্নয়ন বা আদর্শের লড়াই ছাপিয়ে নির্বাচনী ময়দানে এখন পেশিশক্তি ও অর্থবিত্তের আস্ফালন প্রবল হয়ে উঠেছে।

আইনি জটে বিদ্ধ প্রার্থীদের দাপট

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্রথম দফার ১,৪৭৫ জন প্রার্থীর মধ্যে প্রায় ২৩ শতাংশ বা ৩৪৫ জনের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক রেকর্ড রয়েছে। এর মধ্যে ২৯৪ জনের বিরুদ্ধে হত্যা, খুনের চেষ্টা এবং নারী নির্যাতনের মতো অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ আছে। দলগতভাবে বিচার করলে দেখা যাচ্ছে, বিজেপির প্রার্থীদের ৭০ শতাংশই ‘দাগি’ হিসেবে চিহ্নিত। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের ৪৩ শতাংশ এবং বামফ্রন্টের ৪৪ শতাংশ প্রার্থীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে। প্রায় ৪৩ শতাংশ আসনকে ‘রেড অ্যালার্ট’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, কারণ সেখানে ৩ জনের বেশি অপরাধমূলক রেকর্ডধারী প্রার্থী একে অপরের বিরুদ্ধে লড়ছেন।

রাজনীতিতে বিত্তের জয়গান

আর্থিক সামর্থ্যের নিরিখেও প্রথম দফার প্রার্থীরা পিছিয়ে নেই। এবারের ভোটে প্রায় ২১ শতাংশ প্রার্থী কোটিপতি, যার মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীদের সম্পদ সবচেয়ে নজরকাড়া। দলটির ৭২ শতাংশ প্রার্থীই কোটিপতি ক্লাবের সদস্য। ব্যক্তিগত সম্পদের নিরিখে জঙ্গিপুরের জাকির হোসেন ১৩৩.৫২ কোটি টাকার সম্পত্তি নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছেন। বিপরীতে বিজেপির ৪৭ শতাংশ এবং কংগ্রেসের ৩৩ শতাংশ প্রার্থী কোটিপতি। প্রার্থীদের গড় সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ১.৩৪ কোটি টাকা হলেও, মাঠ পর্যায়ে এমন প্রার্থীও আছেন যাদের সম্বল মাত্র ৫০০ থেকে ৯০০ টাকা।

শিক্ষা ও লিঙ্গ বৈষম্যের চালচিত্র

শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকে প্রার্থীদের একটি মিশ্র চিত্র ফুটে উঠেছে। প্রায় ৪৭ শতাংশ প্রার্থী স্নাতক বা তার বেশি শিক্ষিত হলেও ৪৮ শতাংশ প্রার্থীর দৌড় পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত। বয়সের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, ৪১ থেকে ৬০ বছর বয়সীদের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। তবে নারী ক্ষমতায়নের দাবি তোলা হলেও প্রথম দফার নির্বাচনে নারী প্রতিনিধিত্ব মাত্র ১১ শতাংশে সীমাবদ্ধ রয়েছে। প্রার্থীদের ওপর ঋণের বোঝাও কম নয়, জনৈক প্রার্থীর ওপর ২৫ কোটি টাকারও বেশি দেনা রয়েছে যা ভোটারদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।

এক ঝলকে

  • প্রথম দফার ২৩ শতাংশ প্রার্থীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে এবং ২৯৪ জনের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ আছে।
  • দলগতভাবে অপরাধমূলক রেকর্ডে বিজেপি (৭০%) শীর্ষে থাকলেও কোটিপতি প্রার্থীর সংখ্যায় এগিয়ে তৃণমূল (৭২%)।
  • জঙ্গিপুরের জাকির হোসেন ১৩৩.৫২ কোটি টাকার সম্পদ নিয়ে প্রথম দফার সবচেয়ে ধনী প্রার্থী।
  • মোট প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ১১ শতাংশ মহিলা, যা নির্বাচনে লিঙ্গ বৈষম্যের চিত্রটি স্পষ্ট করে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *