‘সামরিক কায়দায় বাংলা দখলের চেষ্টা!’ কলকাতায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর হাইভোল্টেজ বৈঠক ঘিরে তোপ তৃণমূলের

‘সামরিক কায়দায় বাংলা দখলের চেষ্টা!’ কলকাতায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর হাইভোল্টেজ বৈঠক ঘিরে তোপ তৃণমূলের

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বাংলার রাজনৈতিক অঙ্গন। সম্প্রতি কলকাতায় কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (সিএপিএফ) শীর্ষকর্তাদের এক নজিরবিহীন বৈঠককে ঘিরে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। সিআরপিএফ, বিএসএফ, সিআইএসএফ, আইটিবিপি এবং এসএসবি-র শীর্ষ আধিকারিকদের এই উপস্থিতিকে সাধারণ নিরাপত্তা পর্যালোচনার উর্ধ্বে গিয়ে ‘সামরিক কায়দায় ক্ষমতা দখল’ হিসেবে দেখছে জোড়াফুল শিবির।

নজিরবিহীন নিরাপত্তা ও তৃণমূলের আপত্তি

তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, কাশ্মীর বা মণিপুরের মতো সংবেদনশীল এলাকা থেকে বাহিনী সরিয়ে এনে বাংলায় মোতায়েন করা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, প্রতি ১৪০ জন ভোটারের বিপরীতে একজন কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করে ভোটারদের মধ্যে ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা চলছে। ২০২১ সালের তুলনায় এবার বাহিনীর সংখ্যা প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পাওয়াকে অগণতান্ত্রিক ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরির কৌশল হিসেবে বর্ণনা করেছেন মহুয়া মৈত্র ও সাকেত গোখলের মতো নেতারা।

শান্তি রক্ষা বনাম মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব

বিপরীত মেরুতে অবস্থান করে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি জানিয়েছে, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতেই এই সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সিআইএসএফ-এর মতে, উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি চালাতেই এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আয়োজন। তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, বাংলার নির্বাচনের হিংসার ইতিহাস মাথায় রেখে কেন্দ্র কড়া পদক্ষেপ নিলেও এত বিপুল বাহিনীর উপস্থিতি ভোটারদের ওপর গভীর মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব ফেলতে পারে।

এক ঝলকে

নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর দাবি, নির্বাচনের হিংসা রুখতে এবং শান্তিপূর্ণ ভোট করাতেই এই কঠোর ব্যবস্থা।

কলকাতায় সিআরপিএফসহ পাঁচটি কেন্দ্রীয় বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের নজিরবিহীন বৈঠক অনুষ্ঠিত।

বাংলায় প্রায় ২.৪ লক্ষ কেন্দ্রীয় জওয়ান মোতায়েন করা হচ্ছে, যা গত নির্বাচনের তুলনায় প্রায় তিনগুণ।

তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, এই বিশাল বাহিনী মোতায়েন আসলে ‘সামরিক কায়দায়’ রাজ্য দখলের চেষ্টা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *