ওসামাকে ‘জি’ আর মোদীকে ‘সন্ত্রাসবাদী’! খাড়গের মন্তব্যে তোলপাড় দেশ, ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে সরব বিজেপি

কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের একটি সাম্প্রতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ সম্বোধন করার অভিযোগে সরব হয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজধানী দিল্লি থেকে শুরু করে দক্ষিণ ভারত পর্যন্ত গেরুয়া শিবিরের ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও খাড়গে নিজের মন্তব্যের স্বপক্ষে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তবে বিজেপি নেতারা বিষয়টিকে দেশের প্রধানমন্ত্রীর পদের অবমাননা ও জনমানুষের অপমান হিসেবে দেখছেন।
বিজেপির পাল্টা আক্রমণ ও ক্ষমা চাওয়ার দাবি
বিজেপির শীর্ষ নেতারা সম্মিলিতভাবে খাড়গের এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন। সম্বিত পাত্র ও কে. অন্নামালাইয়ের মতো নেতারা দাবি করেছেন, এটি কেবল কোনো অনিচ্ছাকৃত ভুল নয়, বরং কংগ্রেসের পরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশলের অংশ। সম্বিত পাত্রের অভিযোগ, কংগ্রেস অতীতে ওসামা বিন লাদেনের মতো সন্ত্রাসবাদীদের প্রতি নরম মনোভাব দেখালেও আজ গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত দেশের প্রধানমন্ত্রীকে কুরুচিকর আক্রমণ করছে। গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে মল্লিকার্জুন খাড়গেকে অবিলম্বে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
রাজনৈতিক মেরুকরণ ও নেতিবাচক প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের এই আবহে শীর্ষ নেতাদের এমন আক্রমণাত্মক ভাষা রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও বিষাক্ত করে তুলছে। শিবরাজ সিং চৌহান এবং বি. এস. ইয়েদুরাপ্পার মতো হেভিওয়েট নেতারা মনে করছেন, ইস্যুহীন হয়ে পড়াতেই কংগ্রেস নেতারা ব্যক্তিগত আক্রমণের পথে হাঁটছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এই ঘটনার জন্য রাহুল গান্ধী ও এম. কে. স্টালিনকেও নিশানা করেছেন। এই বিতর্কের ফলে আগামী দিনে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি এবং রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এক ঝলকে
কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এই ঘটনার দায় রাহুল গান্ধী ও বিরোধী জোটের ওপর চাপিয়ে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে।
প্রধানমন্ত্রীকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলার অভিযোগে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে বিতর্কের ঝড়।
সম্বিত পাত্র ও কে. অন্নামালাই প্রধানমন্ত্রীর পদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে খাড়গের প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা দাবি করেছেন।
বিজেপি এই মন্তব্যকে কংগ্রেসের ‘বিষাক্ত মানসিকতা’ ও সন্ত্রাসবাদের প্রতি তাদের পুরনো নরম মনোভাবের প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেছে।