সুদর্শন চক্রের আগুনে ছাই হয়েছিল শিবের কাশী! দাপর যুগের সেই মহাপ্রলয়ের নেপথ্য কাহিনী

পৌরাণিক আখ্যান অনুসারে, দেবাদিদেব মহাদেবের প্রিয় নগরী কাশী একবার শ্রীকৃষ্ণের সুদর্শন চক্রের রোষানলে পড়ে ভস্মীভূত হয়েছিল। মগধের রাজা জরাসন্ধ ও কাশীর রাজার যৌথ ষড়যন্ত্র এবং শ্রীকৃষ্ণের হাতে কাশী নরেশের মৃত্যুর পর এই সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে। পিতার মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে কাশী নরেশের পুত্র ভগবান শিবের কঠোর তপস্যা করে শ্রীকৃষ্ণকে বধ করার বর প্রার্থনা করেন। মহাদেব তাকে একটি বিনাশকারী ‘কৃত্যা’ প্রদান করেন, যা লক্ষ্যবস্তুকে ধ্বংস করতে সক্ষম হলেও কোনো ব্রাহ্মণ ভক্তের ওপর প্রয়োগ করলে তা বিপরীত ফল দেবে বলে সতর্ক করা হয়েছিল।
প্রতিশোধের আগুন ও কাশীর ধ্বংস
কাশী রাজপুত্র সেই দৈব শক্তি বা কৃত্যাকে দ্বারকায় শ্রীকৃষ্ণের বিনাশে প্রেরণ করেন। কিন্তু শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং পরম ভক্ত ও পরমেশ্বর হওয়ায় সেই শক্তি ব্যর্থ হয়ে ফিরে যায় এবং পাল্টা তাকে তাড়া করে শ্রীকৃষ্ণের সুদর্শন চক্র। সুদর্শন চক্রের তেজে সেই কৃত্যা ভস্মীভূত হয় এবং ধাবমান চক্রের প্রচণ্ড অগ্নিতে অভিশপ্ত কাশী নগরীসহ রাজপুত্রও পুড়ে ছাই হয়ে যান। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, মহাদেবের এই নগরী পুণ্যভূমি হওয়া সত্ত্বেও অধর্মের পক্ষ নেওয়ায় এমন ভয়াবহ পরিণতির সম্মুখীন হয়েছিল।
বারাণসীর পুনর্জন্ম ও বর্তমান গুরুত্ব
ভস্মীভূত হওয়ার পর এই পবিত্র ভূমি পুনরায় গড়ে তোলা হয়। লোকগাঁথা অনুযায়ী, ‘বারা’ ও ‘অসি’ নদীর মধ্যবর্তী স্থানে এই নগরী পুনর্স্থাপিত হওয়ায় এর নাম হয় বারাণসী। এটিই মূলত প্রাচীন কাশীর পুনর্জন্ম হিসেবে বিবেচিত। বর্তমানে এই নগরী হিন্দুধর্মের অন্যতম শ্রেষ্ঠ তীর্থস্থান এবং ভগবান শিবের চিরন্তন আবাস্থল হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত, যেখানে আজও অগণিত ভক্ত মুক্তি ও শান্তির খোঁজে ভিড় করেন।
এক ঝলকে
- জরাসন্ধের প্ররোচনায় শ্রীকৃষ্ণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন কাশীর রাজা।
- পিতার মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে শিবের বরপ্রাপ্ত হয়ে দ্বারকায় আক্রমণ করেন কাশী রাজপুত্র।
- শ্রীকৃষ্ণের সুদর্শন চক্রের পাল্টা আঘাতে সমগ্র কাশী নগরী পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
- ধ্বংসের পর বারা ও অসি নদীর মাঝে এই নগরীর পুনর্জন্ম ঘটে যা বর্তমান বারাণসী।