যৌবন ধরে রাখতে সাপের রক্ত পান! অবাক করা এই ঐতিহ্যের কথা জানেন কি?

বিশ্বজুড়ে অদ্ভুত সব খাদ্যাভ্যাস আর বিচিত্র সব ঐতিহ্যের কমতি নেই। তবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশে প্রচলিত সাপের রক্ত ও বিষ পান করার প্রথা বর্তমানে গোটা বিশ্বকে অবাক করে দিচ্ছে। বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় সাপের রক্ত পান করার বিষয়টি এখন অনেকটাই নিয়মিত নেশার মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেখানকার স্থানীয়দের বিশ্বাস, কোবরা বা বিষধর সাপের রক্ত পান করলে দীর্ঘক্ষণ কর্মক্ষম থাকা যায় এবং এটি স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
যৌবন ধরে রাখা ও ওষুধি গুণাগুণ
এই বিচিত্র প্রথার পেছনে বৈজ্ঞানিক কোনো শক্তিশালী ভিত্তি না থাকলেও রয়েছে গভীর লোকজ বিশ্বাস। ইন্দোনেশিয়ায় পুরুষরা শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির আশায় সাপের রক্ত পান করেন, অন্যদিকে নারীরা মনে করেন এটি তাদের ত্বককে উজ্জ্বল করবে এবং দীর্ঘকাল যৌবন ধরে রাখতে সাহায্য করবে। ভিয়েতনামে আবার হজমের সমস্যা ও মাথাব্যথা দূর করতে সাপের মাংস দিয়ে তৈরি বিভিন্ন পদের বিশেষ প্রচলন রয়েছে। সেখানে সাপের বিষ ও রক্ত দিয়ে তৈরি ‘স্नेक ওয়াইন’ একটি বিশেষ পানীয় হিসেবে সমাদৃত, যা বহু রোগের মহৌষধ হিসেবে বিবেচিত হয়।
স্বাস্থ্যঝুঁকি ও বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা
যদিও এই অঞ্চলে সাপের বিষ ও রক্তকে পুষ্টিকর মনে করা হয়, তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানে এর মারাত্মক ঝুঁকির কথা বলা হয়েছে। সাপের বিষে এমন কিছু প্রোটিন ও এনজাইম থাকে যা মানবদেহে প্রবেশ করলে স্নায়বিক সমস্যা বা রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ার মতো জটিলতা তৈরি করতে পারে। ভারতসহ এশিয়ার অনেক উপজাতীয় অঞ্চলে সাপের মাংস খাওয়ার চল থাকলেও, রক্ত বা বিষ সরাসরি পান করার ফলে মারাত্মক সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে প্রক্রিয়াজাত না করে এসব গ্রহণ করা মৃত্যুর কারণও হতে পারে।
এক ঝলকে
- ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় দীর্ঘ যৌবন ও সুস্বাস্থ্যের আশায় মানুষ সরাসরি সাপের রক্ত পান করে।
- ভিয়েতনামে হজমের সমস্যা দূর করতে সাপের মাংসের ব্যঞ্জন এবং ‘স্नेक ওয়াইন’ জনপ্রিয়।
- চীন ও ভারতের কিছু আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যেও সাপের মাংস খাওয়ার প্রাচীন ঐতিহ্য রয়েছে।
- চিকিৎসকদের মতে, সাপের বিষ সরাসরি গ্রহণ করা শরীরের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং প্রাণঘাতী হতে পারে।