ভালোবাসার বদলে বারবিকিউ সস দিয়ে স্বামীর মাংস ভক্ষণ! তিন দশকের সেই নৃশংসতা আজও শিহরণ জাগায়

ভালোবাসার বদলে বারবিকিউ সস দিয়ে স্বামীর মাংস ভক্ষণ! তিন দশকের সেই নৃশংসতা আজও শিহরণ জাগায়

তিন দশক আগে ক্যালিফোর্নিয়ার হান্টিংটন বিচে ঘটে যাওয়া এক লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড আজও অপরাধ জগতের ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় হয়ে আছে। ১৯৯১ সালে ওমাইমা নেলসন নামের এক নারী তার ৫৬ বছর বয়সী স্বামী বিল নেলসনকে নৃশংসভাবে হত্যা করেন। স্রেফ কয়েক দিনের পরিচয়ে বিয়ে হলেও, দাম্পত্যের এক মাস পেরোনোর আগেই ওমাইমা যে বীভৎসতা প্রদর্শন করেছিলেন, তা তৎকালীন তদন্তকারী কর্মকর্তাদেরও স্তব্ধ করে দিয়েছিল।

প্রতিশোধ নাকি বিকৃত মস্তিষ্ক

ওমাইমার দাবি অনুযায়ী, ১৯৯১ সালের নভেম্বরে এক বিশেষ রাতে বিল তাকে বিছানায় বেঁধে যৌন নিপীড়ন করার চেষ্টা করেন। শৈশবে নারী যৌনাঙ্গ বিকৃতির (এফজিএম) শিকার হওয়া ওমাইমা সেই মুহূর্তে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং আত্মরক্ষার খাতিরে বিলের মাথায় আঘাত ও ছুরিকাঘাত করে তাকে হত্যা করেন। তবে ঘটনার পরবর্তী পদক্ষেপগুলো ছিল আরও ভয়াবহ। খুনের পর টানা ১২ ঘণ্টা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় থেকে তিনি স্বামীর মৃতদেহ টুকরো টুকরো করেন।

রান্নাঘরে প্রমাণের বিলুপ্তি

প্রমাণ নষ্ট করতে ওমাইমা অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় বিলের হাত সেদ্ধ করেন যাতে আঙুলের ছাপ মুছে যায়। প্রতিবেশীদের বয়ান অনুযায়ী, একটানা দুই দিন ধরে ওমাইমার রান্নাঘরের ‘গার্বেজ ডিসপোজাল’ মেশিন চলার শব্দ পাওয়া গিয়েছিল। পুলিশের তল্লাশিতে ফ্রিজে শরীরের বিভিন্ন অংশ এবং তেলে ভাজা হাতের সন্ধান মেলে। এমনকি ওমাইমা তার মনোবিদের কাছে স্বীকার করেছিলেন যে, তিনি তার স্বামীর পাঁজরের মাংস বারবিকিউ সস দিয়ে রান্না করে খেয়েছিলেন।

বর্তমানে ওমাইমা নেলসন তার এই নৃশংস অপরাধের জন্য কারাদণ্ড ভোগ করছেন। একাধিকবার প্যারোলের আবেদন করলেও কারাগারে রক্ষীদের ওপর আক্রমণ ও অসদাচরণের কারণে আদালত তাকে মুক্তি দিতে অস্বীকার করেছে। এই ভয়াবহ ঘটনাটি কেবল একটি হত্যাকাণ্ড নয়, বরং মানুষের চরম মানসিক বিকৃতি ও নৃশংসতার এক চরম নিদর্শন হিসেবে থেকে গেছে।

এক ঝলকে

  • ১৯৯১ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় ওমাইমা নেলসন তার স্বামী বিল নেলসনকে নৃশংসভাবে হত্যা করেন।
  • হত্যার পর প্রমাণ নষ্ট করতে ওমাইমা মৃতদেহ টুকরো করে রান্না ও ভক্ষণ করেন।
  • পুলিশের তল্লাশিতে ফ্রিজ ও রান্নার পাত্র থেকে মানুষের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়।
  • বর্তমানে কারাগারে বন্দি ওমাইমার প্যারোলে মুক্তির আবেদন বারবার নাকচ হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *