মঞ্চে মেজাজ হারালেন মমতা, মোদীকে নিয়ে করা মন্তব্য ঘিরে তুঙ্গে রাজনৈতিক শোরগোল!

২০২৬-এর মেগা নির্বাচনের প্রাক্কালে ব্যারাকপুরের জনসভা থেকে আক্রমণাত্মক মেজাজে ধরা দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় বঞ্চনা এবং ১০০ দিনের কাজের বকেয়া টাকা নিয়ে সরব হতে গিয়ে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে লক্ষ্য করে নজিরবিহীন মন্তব্য করেন তিনি। মমতা দাবি করেন, দিল্লিতে এক বৈঠকের সময় প্রধানমন্ত্রী তাঁকে উপেক্ষা করার চেষ্টা করেছিলেন। জনসভার মঞ্চ থেকে তিনি সগর্বে ঘোষণা করেন, মোদীজি তাঁকে ‘পকেটে ভাঁজ করে’ নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু বাংলার মেয়ে হিসেবে তিনি ভয় পাওয়া বা মাথা নত করার পাত্রী নন।
শুভেন্দুকে হুঁশিয়ারি ও নন্দীগ্রামের স্মৃতি
প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও তৃণমূল নেত্রীর নিশানায় ছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামের নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, লোডশেডিং করে যে জিতেছিল, ২০২৬-এর নির্বাচনে সাধারণ মানুষ তার হিসাব নেবে। ব্যারাকপুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে দলত্যাগী নেতাদের ‘গদ্দার’ ও ‘বেইমান’ বলে সম্বোধন করে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, আসন্ন নির্বাচনে বেইমানি করা ব্যক্তিদের বাংলার মানুষ কোনোভাবেই ক্ষমা করবে না।
২০২৬-এর সুর বেঁধে দিলেন মমতা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্যারাকপুরের এই উত্তপ্ত ভাষণ মূলত আগামী বিধানসভা নির্বাচনের রণকৌশল। একদিকে কেন্দ্রের বঞ্চনাকে হাতিয়ার করে জাতীয় স্তরে লড়াইয়ের বার্তা দেওয়া, অন্যদিকে ব্যক্তিগত মর্যাদাকে বাংলার সম্মানের সাথে যুক্ত করে ভোটারদের আবেগ উস্কে দেওয়াই তাঁর লক্ষ্য। শিল্পাঞ্চলের এই স্নায়ুকেন্দ্র থেকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝিয়ে দিলেন যে, প্রতিপক্ষকে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে রাজি নয় তাঁর দল। এই আক্রমণের ফলে রাজ্যের শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
এক ঝলকে
- ব্যারাকপুরের জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নজিরবিহীন ব্যক্তিগত আক্রমণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
- প্রধানমন্ত্রী তাঁকে ‘পকেটে ভাঁজ করে’ রাখার চেষ্টা করেছিলেন বলে দাবি তৃণমূল নেত্রীর।
- শুভেন্দু অধিকারীকে ‘গদ্দার’ আখ্যা দিয়ে নন্দীগ্রামের হারের প্রতিশোধ ২০২৬-এ নেওয়ার হুঁশিয়ারি।
- বকেয়া টাকা ও কেন্দ্রীয় বঞ্চনার ইস্যুকে হাতিয়ার করে ভোটের প্রচার শুরু।