‘তোমাকে ছাড়া বাঁচব না’— লোকলজ্জা ভুলে হাসপাতালের বিছানায় বসেই বিয়ের জেদ কাকিমা ও ভাইপোর!

বিহারের গোপালগঞ্জ জেলার ভোরে থানা এলাকায় এক গৃহবধূ ও তাঁর আপন ভাইপোর মধ্যে গড়ে ওঠা অনৈতিক সম্পর্কের জেরে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। লোকলজ্জা আর বিচ্ছেদের ভয় থেকে রক্ষা পেতে দুজনেই বিষপান করে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। বর্তমানে তাঁরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও সম্পর্কের টানাপোড়েন
সূত্র মারফত জানা গেছে, গত বছরের শেষে বিনোদ (ছদ্মনাম) নামের এক যুবকের সাথে ২৫ বছর বয়সী নেহার বিয়ে হয়। বিয়ের মাসখানেক পরেই জীবিকার তাগিদে বিনোদ পুনে চলে গেলে একাকীত্বের সুযোগে তাঁর স্ত্রী ও ১৭ বছর বয়সী ভাইপোর মধ্যে ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। গত ছয় মাস ধরে চলা এই গোপনীয় সম্পর্কের বিষয়টি জানাজানি হতেই পরিবারে অশান্তি শুরু হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিনোদকে তড়িঘড়ি বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হলে জটিলতা আরও বাড়ে।
ঈর্ষা থেকে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত
গত ১৬ এপ্রিল স্বামী বাড়ি ফেরার পর চাচার সঙ্গে চাচিকে দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়ে কিশোর ভাইপো। মানসিক অস্থিরতা ও সম্পর্কের অনিশ্চয়তা থেকে প্রথমে নেহা ইঁদুর মারার বিষ পান করেন। এই খবর পাওয়ামাত্রই প্রেমে অন্ধ ভাইপোও বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। খবর অনুযায়ী, মুমূর্ষু অবস্থাতেও তাঁরা একে অপরের সঙ্গে থাকার এবং বিয়ে করার জেদ ধরেছেন।
সামাজিক নৈতিকতা ও পারিবারিক কাঠামোর অবক্ষয়ের এই ঘটনাটি পুরো এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিনের পারিবারিক বন্ধন ছিন্ন করে এ ধরনের হঠকারী সিদ্ধান্ত সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- গোপালগঞ্জে পরকীয়া সম্পর্কের জেরে চাচি ও ভাইপোর বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা।
- প্রবাস থেকে স্বামী ফিরে আসার পর সম্পর্কের টানাপোড়েন চরম পর্যায়ে পৌঁছায়।
- উভয়ই বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
- সামাজিক অবক্ষয় ও অনৈতিক সম্পর্কের জেরে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।